কলকাতা, ১৭ জুলাই: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধায়কদের স্বাক্ষর-বিভ্রাট সংক্রান্ত মামলায় আরও এক মাসের জন্য অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি কৌশিক চন্দের একক বেঞ্চ সিআইডির পক্ষ থেকে গ্রেফতার-সহ কোনওরকম কড়া পুলিশি পদক্ষেপে স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দেয়।
এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিআইডি দায়ের করা এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। শুক্রবার সেই মামলার শুনানি শেষে আদালত তাঁর অন্তর্বর্তী সুরক্ষা আরও এক মাসের জন্য বহাল রাখে। এর আগে দেওয়া সুরক্ষার মেয়াদ শুক্রবারই শেষ হয়েছিল।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই দু’দফা সিআইডির জেরার মুখোমুখি হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনার সূত্রপাত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী বেঞ্চের জন্য সংরক্ষিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে। গত মাসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোসকে চিঠি দিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপ-নেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে তৃণমূল পরিষদীয় দলের চিফ হুইপ হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তাব জানান।
অধ্যক্ষ ওই চিঠির সঙ্গে তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর-সম্বলিত একটি প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে সেই প্রস্তাব জমা পড়লেও বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন, কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি রয়েছে। এরপর বিধানসভার সচিবালয় বিষয়টির তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেয়।
বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিআইডি দুটি পৃথক মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে। একটি বিধায়কদের স্বাক্ষর-বিভ্রাট সংক্রান্ত মামলা এবং অন্যটি সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লক্ষ্য করে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা। ঘৃণাত্মক বক্তব্যের ওই মামলায় ইতিমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার একটি জেলা আদালতে নিজের কণ্ঠস্বরের নমুনাও জমা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
























