কলকাতা, ১৬ জুলাই (আইএএনএস): অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিতে আসা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী রুক্মিণী মল্লিক ওরফে কোয়েল মল্লিক রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। উচ্চকক্ষে নির্বাচিত হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার জন্ম দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেওয়া তৃণমূলের এটি চতুর্থ ঘটনা। এর আগে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক একে একে সাংসদ পদ ছাড়েন। পরে তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়ে চলতি মাসের শেষদিকে অনুষ্ঠিত হতে চলা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থীও হয়েছেন।
এবার কোয়েল মল্লিকের ইস্তফার পর তিনিও বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণনের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার পরই তাঁকে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যেতে দেখা যায়।
সূত্রের খবর, কোয়েল মল্লিক প্রথমে ই-মেলের মাধ্যমে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন। তবে রাজ্যসভার নিয়ম অনুযায়ী, সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিতে হলে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে চিঠি জমা দিতে হয়। সেই নিয়ম মেনেই বৃহস্পতিবার তিনি রাজ্যসভায় উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফাপত্র জমা দেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভার চার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলে তা নিয়ে ব্যাপক চমক তৈরি হয়েছিল। কোয়েল মল্লিক ছাড়াও প্রার্থী করা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, গায়ক-রাজনীতিক তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. মেনকা গুরুস্বামীকে। চারজনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
তবে নির্বাচিত হওয়ার পর কোয়েল মল্লিক রাজ্যসভার একটি অধিবেশনেও উপস্থিত ছিলেন না। পরিবর্তে তিনি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের হয়ে নির্বাচনী প্রচারেই বেশি সময় ব্যয় করেন।
উল্লেখ্য, কোয়েল মল্লিক বাংলা চলচ্চিত্র জগতের প্রখ্যাত অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের কন্যা।



















