নয়াদিল্লি, ১৭ জুলাই(আইএএনএস): সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদত ও পৃষ্ঠপোষকতার বিরুদ্ধে ফের সরব হল ভারত। শুক্রবার নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের (এমইএ) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার বা অবস্থান (লোকাস স্ট্যান্ডি) পাকিস্তানের নেই।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাহালগামের জঙ্গি হামলায় বহু নিরীহ মানুষের প্রাণ গিয়েছে। গোটা দেশ সেই হামলার নৃশংসতা দেখেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি তদন্ত শুরু করেছে এবং তা এখনও চলছে। সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বহু দশকের পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থনের বিষয়টি সবারই জানা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পাহালগামে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিরা ধর্ম পরিচয় যাচাই করে পর্যটকদের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা অমুসলিমদের শনাক্ত করতে ‘কালমা’ পাঠ করতে বাধ্য করে। ওই হামলায় ২৫ জন পর্যটক এবং পর্যটকদের রক্ষা করতে গিয়ে এক স্থানীয় ঘোড়সওয়ার নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার শাখা ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ হামলার দায় স্বীকার করেছিল।
হুরিয়ত নেতাদের বিরুদ্ধে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র চার্জশিট দাখিলের পর পাকিস্তানি নেতাদের সমর্থনমূলক মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার পাকিস্তানের নেই।
প্রসঙ্গত, গত ১০ জুলাই এনআইএ ১৯৯৬ সালের শ্রীনগর হিংসার ঘটনায় বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা শব্বির আহমেদ শাহ-সহ ছয়জন হুরিয়ত নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সৈয়দ আলি শাহ গিলানি, আব্দুল গনি লোন, মোহাম্মদ ইয়াকুব ওয়াকিল, জাভিদ আহমেদ মির এবং শাকিল আহমেদ বখশি।
তদন্তে এনআইএ জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালের ১৭ জুলাই নিহত জঙ্গি হিলাল আহমেদ বেইঘের শেষকৃত্যের শোভাযাত্রায় অভিযুক্ত হুরিয়ত নেতারা অবৈধ জমায়েতের নেতৃত্ব দেন এবং পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হিংসায় উস্কানি দেন। সেই সময় শোভাযাত্রায় মিশে থাকা সশস্ত্র জঙ্গিরা পুলিশের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়, যাতে একাধিক পুলিশকর্মী আহত হন। পাশাপাশি বিক্ষোভ চলাকালীন ব্যাপক পাথর ছোড়ায় সরকারি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এনআইএ-র দাবি, অভিযুক্ত হুরিয়ত নেতারা ভারতবিরোধী, পাকিস্তানপন্থী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী স্লোগান দেন। এছাড়াও তাঁরা সশস্ত্র আন্দোলনের পক্ষে উস্কানিমূলক ভাষণ দিয়েছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।



















