পাটনা, ১ মে(আইএএনএস): টানা কয়েকদিনের তীব্র গরমে বিপর্যস্ত বিহারে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। একাধিক জেলায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে পৌঁছে গিয়েছিল, তবে এখন প্রাক-বর্ষা পরিস্থিতির কারণে আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল হয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বায়ু এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে রাজ্যে বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বেশ কয়েকটি জেলায় হালকা বৃষ্টি, বজ্রঝড়, বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি ৩ মে পর্যন্ত চলতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তবে এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে বিহারের একাধিক জেলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১২ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
মুজাফফরপুর, মধুবনী, পূর্ব ও পশ্চিম চম্পারণ, সীতামার্হী, সমস্তিপুর, দরভাঙা, হাজিপুর, ছাপরা এবং বেগুসরাই সহ বিভিন্ন জেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রবল ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ভেঙে পড়ার ফলে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকাই রাতভর অন্ধকারে ডুবে ছিল।
সড়কে গাছ পড়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়, পাশাপাশি রেল পরিষেবাও কিছুটা প্রভাবিত হয়। কৃষিক্ষেত্রে বড় ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে আম ও লিচু ফসল ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে।
বিভিন্ন দুর্ঘটনার মধ্যে বেগুসরাইয়ে নির্মাণাধীন দেয়াল ধসে এক যুবকের মৃত্যু, হাজিপুরে গাছ চাপা পড়ে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু এবং মারহারায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু উল্লেখযোগ্য।
অরুণাচল থেকে অরওয়াল জেলার একটি বিয়ের শোভাযাত্রায় বজ্রপাতের কারণে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এছাড়াও মধুবনী ও অন্যান্য জেলায় বজ্রপাতজনিত একাধিক আহত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
আবহাওয়া দফতর রাজ্যের ৩৩টি জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে এবং ঘণ্টায় ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করেছে।



















