ব্রাতিস্লাভা, ১৫ জুন (আইএএনএস): পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত অবসানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই সমঝোতার বাস্তবায়ন অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের অবসান ঘটাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, তাকে আমি স্বাগত জানাই। এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে গুরুতর অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং বহু দেশে প্রাণহানিও ঘটেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত আশা করে, এই সমঝোতার বাস্তবায়ন অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে এবং নৌ-পরিবহণ ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। বাকি বিষয়গুলিতেও টেকসই চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে সমাধান হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।”
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।
নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লেখেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন। আমি স্ট্রেট অব হরমুজকে টোলমুক্তভাবে খুলে দেওয়ার অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে মার্কিন নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি। বিশ্বের জাহাজগুলো আবার যাত্রা শুরু করুক, তেল প্রবাহ স্বাভাবিক হোক।”
আরও এক পোস্টে তিনি এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, “এই মহান চুক্তি গোটা অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসবে।”
ট্রাম্প জানান, আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর হবে। জলপথে পাতা মাইন অপসারণের কাজও এর অংশ হিসেবে সম্পন্ন করা হবে।
তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। হোয়াইট হাউসও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ করেনি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মতো দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয়গুলি সম্পর্কেও ট্রাম্প কোনও মন্তব্য করেননি।
তবে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, আপাতত স্ট্রেট অব হরমুজে নৌ-পরিবহণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বাধা দূর করাই এই সমঝোতার প্রধান লক্ষ্য।



















