নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩১ জুলাই: সিপাহীজলা জেলার মধুপুর পূর্ব বাজারে অগ্নিকাণ্ডে একটি মিষ্টির দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় দোকানের মালিক কৃষ্ণ শর্মার প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
জানা গেছে, কৃষ্ণ শর্মা প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে বন্ধন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মধুপুর বাজারে একটি মিষ্টির দোকান চালু করেন। সেই দোকানের আয়ের উপর নির্ভর করেই তাঁর পরিবারের সংসার চলছিল।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান তিনি। তাঁর দাবি, দোকান বন্ধ করার আগে বিদ্যুতের সমস্ত সুইচ বন্ধ করে বেরিয়ে যান। পরে রাতেই মধুপুর থানার পক্ষ থেকে ফোন করে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর দোকান থেকে আগুন ও ধোঁয়া বের হচ্ছে।
খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দেখেন, মধুপুর থানার পুলিশ এবং বিশালগড় অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দোকানটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। দোকান মালিকের দাবি, আগুনে দোকানের সমস্ত মিষ্টি, ব্যবসার সরঞ্জাম, দুটি ফ্রিজ, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং নগদ প্রায় ১২ হাজার টাকা পুড়ে যায়। সব মিলিয়ে তাঁর প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে কৃষ্ণ শর্মা মনে করছেন, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ঘটনার পর বাজারের একাংশ ব্যবসায়ীর মধ্যে নাশকতার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি সুবীর চৌধুরী, চিত্তরঞ্জন দেবনাথ, বিজেপি নেতা দুলাল চৌধুরী, বিজেপির প্রাক্তন জেলা কমিটির সদস্য বিশ্বজিৎ সাহা, বাজার সংঘের সম্পাদক জহর সাহা, প্রাক্তন সম্পাদক তপন দেবনাথ, সিপিআই(এম)-এর কমলাসাগর কেন্দ্রের প্রাক্তন প্রার্থী হিরন্ময় নারায়ণ দেবনাথ-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব
ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
তাঁরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি, দুর্ঘটনার পেছনে কোনও নাশকতা বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানান।
এদিকে, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্টের পরই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।



















