নয়াদিল্লি, ১৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কংগ্রেসের দুই প্রবীণ নেতার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) পদক্ষেপের পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলল বিজেপি। বিজেপির অভিযোগ, একদিকে রাহুল গান্ধী পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ ও বেকারত্ব নিয়ে সরব হন, অথচ তাঁর দলের নেতাদের বিরুদ্ধে পরীক্ষায় অনিয়ম ও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তিনি চুপ থাকেন।
বিজেপির এই প্রতিক্রিয়া এসেছে উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা হরিশ রাওয়াত দলের দুটি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর। ইডি রাওয়াতের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) চন্দন সিং জিনার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও গয়না বাজেয়াপ্ত করার পর এই পদক্ষেপ করা হয়। অভিযোগ, ভিপিডিও পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে এই ঘটনাটির যোগ রয়েছে।
এদিকে, সোমবার ইডি ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের প্রাক্তন ওএসডি চেতন বোরঘারিয়াকে গ্রেফতার করেছে। পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে ডিএসপি ও কালেক্টর পদে বেআইনি নিয়োগের অভিযোগে চলা মামলায় এই গ্রেফতারি হয়েছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, কংগ্রেসের কথিত ‘মোহব্বত কি দোকান’-এ যেন দুর্নীতিরই কারবার চলছে। পড়ুয়াদের নিয়ে রাহুল গান্ধী সরব হলেও তাঁর দলের লোকজন দেশের যুব সমাজ ও পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুললে সেই আওয়াজ তাঁর কানে পৌঁছয় না বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে বাঁসুরি বলেন, দেশে বারবার নীট প্রশ্নফাঁস নিয়ে রাহুল পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন। অথচ উত্তরাখণ্ডের ভিপিডিও পরীক্ষার অনিয়ম এবং ছত্তিশগড়ের কথিত সিজিপিএসসি কেলেঙ্কারিতে কংগ্রেস নেতাদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাঁর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
বাঁসুরি স্বরাজ আরও দাবি করেন, হিমাচল প্রদেশে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে এক রাজনীতিকের ছেলের বিরুদ্ধে ‘কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ ও বেকারত্ব নিয়ে বড় বড় কথা বলা হলেও কংগ্রেসের নিজস্ব নেতা বা রাজনৈতিক মদতের মতো গুরুতর প্রশ্ন উঠলে রাহুল গান্ধী কেন নীরব থাকেন, তার জবাব দিতে হবে।
এদিকে, সদ্য অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে আয়োজিত নৈশভোজে তেলঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশ ও কর্নাটকের কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়েও কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর দাবি, জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের মতপার্থক্য থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের নৈশভোজে তিন কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার না দিয়ে তাঁরা দলীয় রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের উল্লেখ করে বাঁসুরি বলেন, তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি প্রথমে নৈশভোজে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেও পরে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে উপস্থিত না থাকার কথা সরকারকে জানান।
বিজেপি সাংসদ প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতা করতে গিয়ে কংগ্রেস কি এখন ‘ভারতমাতা’রও বিরোধিতা শুরু করেছে? তাঁর কথায়, ব্রিকস কোনও বিজেপির রাজনৈতিক মঞ্চ নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভাবমূর্তি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ‘টিম ইন্ডিয়া’র কথা প্রধানমন্ত্রী যখন বলছেন, সেই সময় তিন মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



















