আগরতলা, ১৫ সেপ্টেম্বর: বেনামি অভিযোগের ভিত্তিতে ত্রিপুরা ল’ ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার নচিকেতা মিত্তলের বিরুদ্ধে ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশন-এর শুরু করা পরবর্তী সমস্ত কার্যক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে ত্রিপুরা হাইকোর্ট।
২০২৬ সালের ডব্লিউপি(সি) নম্বর ৬৪৬ মামলায় এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি এম. এস. রামচন্দ্র রাও এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিতের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশনের জারি করা আদেশের ভিত্তিতে শুরু হওয়া পরবর্তী সমস্ত কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দেওয়ার সময় অভিযোগটি গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে একাধিক প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেছে আদালত। বেঞ্চ উল্লেখ করেছে, সংশ্লিষ্ট অভিযোগটি ছিল বেনামি। ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশন রেগুলেশনের ৯ নম্বর বিধি অনুযায়ী অভিযোগটি প্রাথমিক পর্যায়েই খারিজ করা উচিত ছিল কি না, সেই প্রশ্ন বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও আদালত প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।
এছাড়াও আদালত প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করেছে যে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলি সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে বলে প্রথম দর্শনে মনে হচ্ছে না। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, এর অর্থ এই নয় যে কোনও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি উপযুক্ত আইনি প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। অভিযোগের প্রকৃতি অনুযায়ী, কোনও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে অন্যান্য আইনগত বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। এর মধ্যে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিকার আইন, ২০১৩ এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান, যেখানে প্রযোজ্য, কার্যকর হতে পারে বলে আদালত উল্লেখ করেছে।
এদিকে, ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশন এবং কমিশনের তদন্ত শাখাকে নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সরকারের পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী কোহিনুর এন. ভট্টাচার্য নোটিশ গ্রহণ করেন।
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই পর্যায়ে করা সমস্ত পর্যবেক্ষণই প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ। মামলাটির চূড়ান্ত বিচার এখনও হয়নি। আগামী ১৮ নভেম্বর ২০২৬ মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। ততদিন পর্যন্ত ১৪ আগস্ট মানবাধিকার কমিশনের জারি করা আদেশের পরবর্তী কার্যক্রম হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী স্থগিত থাকবে।
























