কলকাতা, ১৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারী প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডের পিছনে ‘ভাইপো গ্যাং’ জড়িত ছিল বলে মঙ্গলবার বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের লোকসভা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে হাসিরানি রথ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য সামনে আসে। হাসিরানি রথ হলেন চন্দ্রনাথ রথের মা।
চলতি বছরের ৬ মে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামে বাড়ি ফেরার পথে চন্দ্রনাথ রথকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের মাত্র দু’দিন পর এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পরাজয় হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কারও নাম না করলেও ‘ভাইপো গ্যাং’ শব্দটি ব্যবহার করে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, চন্দ্রনাথ রথের হত্যার পিছনে ‘ভাইপো গ্যাং’-এর হাত রয়েছে বলে তিনি নির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছেন। হত্যার জন্য ২ কোটি টাকায় সুপারি কিলার নিয়োগ করা হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি। একাধিক ফোন রেকর্ডিং তিনি শুনেছেন এবং সেগুলিতে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ‘ভাইপো গ্যাং’-এর যোগসূত্র স্পষ্ট বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথ রথ শুধুমাত্র বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা থাকার সময় তাঁর প্রধান সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন বলেই এমন করুণ পরিণতির শিকার হয়েছেন।
মধ্যমগ্রামে বাড়ি ফেরার সময় চন্দ্রনাথ রথকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করলেও পরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে।
এখনও পর্যন্ত চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে প্রকৃতপক্ষে কারা রয়েছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
–আইএএনএস



















