কলকাতা, ১৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য মঙ্গলবার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল বিজেপি। নন্দীগ্রামে দলের প্রার্থী করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে। রেজিনগরে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন সখারভ সরকার।
চন্দ্রনাথ রথকে চলতি বছরের ৬ মে সন্ধ্যায় উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের মাত্র দু’দিন পর এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পেয়েছিল।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে নন্দীগ্রামের জানকীনাথ মন্দিরে পুজো দেবেন হাসিরানি রথ। ইতিমধ্যেই তাঁর মনোনয়ন জমা দেওয়ার কর্মসূচিতে যোগ দিতে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হতে শুরু করেছেন।
পুজোর পর প্রায় ২০ হাজার কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে মিছিল করে হলদিয়ায় জেলা শাসকের দফতরে যাবেন হাসিরানি রথ। সেখানেই তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রীও উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর। ভোটগ্রহণ হবে ৬ অক্টোবর এবং ফল ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। ভবানীপুরে তিনি তাঁর পূর্বসূরি তথা প্রাক্তন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেন। পরে ভবানীপুর আসনটি তিনি ধরে রাখায় নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের নওদা ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্র থেকেই প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। নওদা আসনটি তিনি ধরে রাখলেও রেজিনগরের উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী করেছেন।
২০২১ সাল থেকে শুভেন্দু অধিকারীর কারণে নন্দীগ্রাম বিজেপির কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। ফলে সেখানে উপনির্বাচনের ফল নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বিশেষ সংশয় নেই। তবে রেজিনগরের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার বিন্যাসের কারণে বিজেপির জন্য লড়াই কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
এক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের মতে, বর্তমানে তিনটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেসেরও রেজিনগরে এবার বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং সিপিআই(এম) এবং কংগ্রেস এই উপনির্বাচনকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নিজেদের একটি করে আসন বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখতে পারে। রেজিনগরের ফল আগামী দিনে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে যেতে পারে, তারও কিছুটা ইঙ্গিত দিতে পারে।
–আইএএনএস



















