নয়াদিল্লি, ১৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): গ্রামীণ পরিবারগুলির মধ্যে পেনশন কভারেজ বাড়ানো এবং সামাজিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে ‘পেনশন সখী’ নামে একটি বিশেষ কর্মী কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। এই লক্ষ্যে গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তর এবং পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (পিএফআরডিএ)-র মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে মঙ্গলবার সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রক জানিয়েছে, দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা-ন্যাশনাল রুরাল লাইভলিহুডস মিশনের বিস্তৃত সামাজিক সংগঠন ও কমিউনিটি নেটওয়ার্ককে এই উদ্যোগে কাজে লাগানো হবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং করেসপন্ডেন্ট (বিসি) সখী এবং প্রশিক্ষিত অন্যান্য কমিউনিটি রিসোর্স পার্সনদের মাধ্যমে পেনশন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, নাম নথিভুক্তকরণ এবং পেনশন সংক্রান্ত সহায়তা দেওয়া হবে।
স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এসএইচজি)-র সদস্য, গ্রামীণ মহিলা, ‘লাখপতি দিদি’ এবং অন্যান্য প্রান্তিক ও পরিষেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠী এই উদ্যোগের বিশেষ সুবিধা পাবেন।
গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের সচিব রোহিত কানসাল বলেন, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের সঞ্চয়ের ধরন, জীবিকার চক্র এবং ঝুঁকির পরিস্থিতি অন্যদের তুলনায় আলাদা। সামাজিক সুরক্ষা মিশনের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এর মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর পরিবারগুলি বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলা করতে, নিজেদের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে এবং দীর্ঘমেয়াদে আরও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
তিনি বলেন, পেনশন সম্পর্কে সচেতনতা এবং আর্থিক সাক্ষরতার ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষিত বিসি সখী এবং আর্থিকভাবে সচেতন অন্যান্য কমিউনিটি কর্মীরা ‘পেনশন সখী’ হিসেবে কাজ করে দেশের গ্রামীণ এলাকায় পেনশন কভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারবেন বলেও তিনি আশাবাদী।
পিএফআরডিএ-র পূর্ণকালীন সদস্য (অর্থনীতি) মমতা শঙ্কর অবসর-পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। বাড়তে থাকা গড় আয়ু এবং পরিবর্তিত জনসংখ্যাগত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তার জন্য আগাম পরিকল্পনা জরুরি বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারগুলির মধ্যে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম-সহ বিভিন্ন পেনশন প্রকল্প গ্রহণে উৎসাহ দেওয়া হবে। বিশেষ করে যেসব গ্রামীণ পরিবারের আনুষ্ঠানিক অবসরকালীন সঞ্চয় ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সীমিত, তাঁদের এই উদ্যোগের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরকারের মতে, এই অংশীদারিত্ব পেনশন সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও গভীর করা এবং গ্রামীণ মানুষের সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এর ফলে দেশের গ্রামীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়িয়ে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘পেনশন সখী’রা প্রত্যন্ত এলাকাতেও মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে পেনশন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, নাম নথিভুক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন। ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড, মোবাইল ও ওয়েবভিত্তিক পরিষেবা এবং কেন্দ্রীয় রেকর্ড-রক্ষণকারী সংস্থার মাধ্যমে ইউনিক আইডেন্টিফায়ার-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার সাহায্যে সচেতনতা, নথিভুক্তকরণ ও কর্মীদের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে।



















