আগরতলা, ১৪ সেপ্টেম্বর: ‘শুধু পুজো করলেই চলবে না, পুজোর পাশাপাশি কর্মও করতে হবে’—এই বার্তা দিয়ে প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্রের বনকুমারি এলাকায় গণপতি উৎসবের শুভ উদ্বোধন করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। ১৩ নম্বর প্রতাপগড় মণ্ডল যুব মোর্চার উদ্যোগে আয়োজিত এই গণেশ পুজোকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
এদিন প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে গণপতি উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। পরে সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গল আরতিতে অংশ নেন তিনি। রাজ্যবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে গণেশের কাছে প্রার্থনা করেন সাংসদ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিপ্লব কুমার দেব রাজ্যে পুজো-পার্বণের পরিবেশ নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, সিপিআইএমের আমলে রাজ্যের মানুষ স্বাধীনভাবে বিভিন্ন পুজো করতে পারতেন না। বর্তমানে রাজ্যের মানুষ মন খুলে পুজো করতে পারছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিন দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সামনে ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’ ধরনের স্লোগান লেখার বিষয়েও আপত্তি জানান বিপ্লব কুমার দেব। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের স্লোগান কমিউনিস্টদের স্লোগান। পুজোর মণ্ডপের সামনে কেন এই ধরনের স্লোগান লেখা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, মানুষ শান্তি ও মঙ্গলের কামনাতেই পুজো করেন। তাই পুজোর সঙ্গে শান্তির বার্তা এমনিতেই জড়িত রয়েছে।
পাশাপাশি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে কর্মের গুরুত্বের উপরও জোর দেন তিনি। বিপ্লব কুমার দেব বলেন, শুধু পুজো করলেই হবে না, তার পাশাপাশি কর্মও করতে হবে। মানুষের জীবনে সাফল্য ও উন্নতির জন্য বিশ্বাসের পাশাপাশি পরিশ্রম এবং কর্মের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি বার্তা দেন।
গণেশের মাহাত্ম্য তুলে ধরে সাংসদ বলেন, গণেশ জ্ঞানের দেবতা। মানুষের জীবনে জ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম। যার কাছে জ্ঞান রয়েছে, তার কাছে দুনিয়ার অনেক কিছুই সহজ হয়ে যায়। তাই গণেশ পুজোর মাধ্যমে জ্ঞান ও বুদ্ধির আশীর্বাদ লাভের পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠানে গণপতি উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। পুজোকে ঘিরে আগামী দিনগুলিতেও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে। বনকুমারি এলাকায় গণপতি উৎসবের এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।



















