মুম্বই, ১৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): গুজরাটে হিন্দি বলা হয় না, সেখানে গুজরাটি ভাষাই প্রচলিত। কিন্তু জাতীয় স্তরে দায়িত্ব পাওয়ার পর হিন্দি জানা ও বলার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করতে কোনও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি। সোমবার মহারাষ্ট্রের নভি মুম্বইয়ে ষষ্ঠ ‘অখিল ভারতীয় রাজভাষা সম্মেলন’-এ এমনই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
হিন্দি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সম্মেলনে অমিত শাহ বলেন, রাজভাষা দেশের জাতীয় সংহতি জোরদার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহারাষ্ট্রের বহুভাষিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করার পাশাপাশি তিনি বিনায়ক দামোদর সাভারকর এবং বাল গঙ্গাধর তিলকের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।
গণেশ উৎসবের সূচনার সঙ্গে সম্মেলনের দিনটি মিলে যাওয়ায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভগবান গণেশ ‘বিঘ্নহর্তা’, অর্থাৎ বাধা দূরকারী। ভারতীয় ভাষাগুলির বিকাশের পথে যে কোনও বাধা তিনি দূর করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন অমিত শাহ।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তাঁর বাড়ি গুজরাটে, যেখানে হিন্দির পরিবর্তে গুজরাটি ভাষাই বলা হয়। কিন্তু তাঁর দল যখন তাঁকে জাতীয় স্তরে দায়িত্ব দেয়, তখন হিন্দি বুঝতে ও বলতে পারার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করতে কোনও অসুবিধা হয়নি। রাজভাষা হিন্দি তাঁকে সারা দেশে মানুষের সেবা করার একটি বড় সুযোগ করে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মহারাষ্ট্রকে সাভারকরের ভূমি হিসেবে উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, সাভারকর শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন না, তিনি তাঁর সময়ের অন্যতম বিদ্বান ভাষাবিদও ছিলেন। বাল গঙ্গাধর তিলকের মারাঠি ভাষাকে পরিশুদ্ধ করার আহ্বানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তিলক এমন বহু শব্দ তৈরি করেছিলেন, যা আগে ভারতীয় ভাষাগুলিতে প্রচলিত ছিল না। পরবর্তীকালে সেই শব্দগুলি মারাঠি-সহ অন্যান্য ভারতীয় ভাষাতেও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
সাভারকরের ভাষাগত ঐতিহ্যকে হিন্দিতে তুলে ধরতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘শব্দ সিন্ধু’ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
অমিত শাহ বলেন, ভারতের আর কোনও রাজ্য মহারাষ্ট্রের মতো এত বৈচিত্র্যময় ও বহুভাষিক নয়। মারাঠি, কোঙ্কনি, গুজরাটি, হিন্দি, সিন্ধি এবং ওয়ারলি—একাধিক ভাষা এখানে একসঙ্গে বিকশিত হয়েছে। তিনি মারাঠি ভাষার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে মারাঠি ‘শাস্ত্রীয় ভাষা’র মর্যাদা পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনোবা ভাবের বক্তব্য উদ্ধৃত করে অমিত শাহ বলেন, হিন্দি ভাষার মাধ্যমে ভাব কাশ্মীর থেকে অসম এবং কেরল পর্যন্ত প্রতিটি গ্রামে ‘ভূদান’ ও ‘গ্রামদান’ আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।
লোকমান্য তিলকের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। ১৮৯৩ সালে গণেশ উৎসব এবং ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ জয়ন্তী শুরু করার মাধ্যমে তিলক জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের ‘স্বরাজ্য’ ধারণার কথাও উল্লেখ করেন অমিত শাহ। তাঁর মতে, শিবাজির কাছে স্বরাজ্য শুধু প্রশাসন বা শাসনের বিষয় ছিল না; এর সঙ্গে ‘স্বধর্ম’ এবং ‘স্বভাষা’-ও অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত ছিল। প্রশাসনে মারাঠি ভাষার ব্যবহারের উপরও তিনি জোর দিয়েছিলেন।
ঔপনিবেশিক শাসনের সময় জাতীয় চেতনা জাগিয়ে তুলতে ‘বন্দে মাতরম্’-এর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতির (এনইপি) উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নীতিতে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে মাতৃভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনে অমিত শাহ হিন্দি ভাষার বিভিন্ন সংস্থান, শর্টহ্যান্ড ও টাইপিং প্রশিক্ষণের একাধিক উদ্যোগের সূচনা করেন। পাশাপাশি রাজভাষা কীর্তি এবং রাজভাষা গৌরব পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মানিত করেন তিনি।
—আইএএনএস



















