হায়দরাবাদ, ১৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): হায়দরাবাদের কাছে মেদচল-মালকাজগিরি জেলায় ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে মাদক খাইয়ে অপহরণ করে তিন দিন ধরে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ৯ জনের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
নির্যাতিতার অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন তার পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে গাড়ি, ট্রেন এবং একটি হোটেলকক্ষে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়। একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী অভিযুক্তদের কবল থেকে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের সাহায্যে মলকাজগিরি কমিশনারেটের আলওয়াল থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় জেরি বরুণ নামে এক যুবকের সঙ্গে ওই কিশোরীর পরিচয় হয়। কয়েক মাস আগে জেরি তাকে ঘুমের ওষুধ মেশানো চকোলেট খাইয়ে গাড়ির মধ্যে যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ। জেরির মাধ্যমে পরিচিত রোমালা বরুণও পরে তাকে যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ। ওই যুবক তাকে সিগারেট, মদ ও গাঁজার নেশায় আসক্ত করে তুলেছিল বলেও পুলিশের দাবি।
এর আগে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ডেভিড বরুণ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গেও তার পরিচয় হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিও তাকে মদ্যপান করিয়ে তার সঙ্গে অসদাচরণ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়েটির আচরণে সন্দেহ হওয়ায় গত ৯ সেপ্টেম্বর তার বাবা তাকে বকাঝকা করেন। এরপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বোল্লারুম রেলস্টেশনে চলে যায় ওই কিশোরী। সেখানে নীরজ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার দেখা হয়। নীরজ তার বন্ধু ভিকিকে ডেকে আনে। অভিযোগ, মাদকজাতীয় পদার্থ খাইয়ে দু’জনে তাকে যৌন নির্যাতন করে।
এরপর ভিকি ও তার বন্ধু নিখিল তাকে দুলাপল্লির একটি ওওয়াইও হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে ভিকি, নিখিল এবং আরও দু’জন তাকে যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ। ওই রাতেই ভিকি তাকে বোল্লারুমে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে।
পরদিন কোনওভাবে সেখান থেকে পালিয়ে বোল্লারুম রেলস্টেশনে পৌঁছয় ওই কিশোরী। সেখানে ভিকি ও তার বন্ধু গণেশ তাকে ফের জোর করে মাদক খাইয়ে মেদচল রেলস্টেশনে নিয়ে যায়। সেখান থেকে মলকাজগিরির উদ্দেশে ট্রেনে ওঠে তারা। অভিযোগ, ট্রেনের মধ্যেও ওই কিশোরীর উপর যৌন নির্যাতন করা হয়। মলকাজগিরিতে পৌঁছে তারা একটি অটোরিকশায় ওঠে। সেখান থেকে সুযোগ বুঝে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে কিশোরী এবং পরিবারের সাহায্যে পুলিশের দ্বারস্থ হয়।
নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেছে। নাবালিকাকে যথাযথ পরিচয় যাচাই ছাড়াই হোটেলে থাকতে দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ওওয়াইও হোটেলের ম্যানেজার ও মালিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
—আইএএনএস



















