নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মহারাষ্ট্র-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সোমবার মহা উৎসাহ, ধর্মীয় আবেগ ও ভক্তির সঙ্গে পালিত হচ্ছে গণেশ চতুর্থী। ১০ দিনব্যাপী এই উৎসবের সূচনায় বাড়ি ও সর্বজনীন প্যান্ডেলে সুসজ্জিত গণেশমূর্তি প্রতিষ্ঠা করে গণেশের আরাধনায় মেতেছেন ভক্তরা। বিভিন্ন শহরে নজরকাড়া সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা, প্যান্ডেল, পুজোর আচার-অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ।
ভক্তরা গণেশের উদ্দেশে ফুল, মিষ্টি-সহ নানা ঐতিহ্যবাহী উপচার নিবেদন করে পুজো করছেন। হিন্দু ধর্মে গণেশ চতুর্থী ভগবান গণেশের জন্মোৎসব হিসেবে পালিত হয়। জ্ঞান, সমৃদ্ধি ও নতুন সূচনার দেবতা হিসেবে পূজিত গণেশকে গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে স্মরণ করার রীতি রয়েছে।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অনন্ত চতুর্দশীতে গণেশ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ১০ দিনের এই উৎসবের সমাপ্তি হবে।
মহারাষ্ট্রে বর্তমান রূপে সর্বজনীন গণেশোৎসবের সূচনার ইতিহাস ঘিরে মুম্বই ও পুণের মধ্যে ঐতিহাসিক দাবি রয়েছে। মুম্বইয়ের গিরগাঁওয়ের কেশবজি নায়ক চাওলে স্বাধীনতা সংগ্রামী লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক ১৮৯৩ সালে প্রথম ‘সার্বজনিক’ গণেশোৎসব শুরু করেছিলেন বলে প্রচলিত ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে জনসমর্থন সংগঠিত করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, ভাউসাহেব রাঙ্গারি গণপতি ট্রাস্টের দাবি, পুণেতে ১৮৯২ সালে ভাউসাহেব রাঙ্গারি সর্বজনীন গণেশোৎসবের সূচনা করেছিলেন। ফলে সর্বজনীন গণেশোৎসবের ইতিহাসে মুম্বই ও পুণে—দুই শহরেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
পুণেতে শ্রীমন্ত ভাউসাহেব রাঙ্গারি গণপতির আগমন উপলক্ষে বিশেষ শোভাযাত্রা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভারতের প্রথম সর্বজনীন গণপতি হিসেবে পরিচিত এই গণেশমূর্তির আগমন অনুষ্ঠানে ঢোল-তাশার ছন্দে বিপুল সংখ্যক ভক্ত অংশ নেন। পাশাপাশি শ্রীমন্ত দগডুশেঠ হালওয়াই গণপতি মন্দিরেও বিশেষ পুজো ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
মুম্বইয়ের বিভিন্ন বিখ্যাত গণেশ প্যান্ডেল ও মন্দিরও আলোকসজ্জা ও বাহারি সাজে সেজে উঠেছে। লালবাগের লালবাগচা রাজা, তেজুকায়া মণ্ডল, গণেশ গলি, মাতুঙ্গা-কিংস সার্কেলের জিএসবি সেবা মণ্ডল, আন্ধেরিচা রাজা, মেরিন লাইন্সের শ্রী বাল গোপাল গণেশ উৎসব মণ্ডল, কেথওয়াড়ি ১১তম ও ১২তম লেন, ওয়াদালার জিএসবি সার্বজনিক গণেশোৎসব সমিতি, তিলক নগর-চেম্বুরের সাহ্যাদ্রি মণ্ডল এবং ফোর্ট বিভাগের সার্বজনিক গণেশোৎসব মণ্ডলসহ বিভিন্ন প্যান্ডেলে ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
শুভ গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে মুম্বইয়ের ঐতিহ্যবাহী লালবাগচা রাজার প্যান্ডেলে হাজার হাজার ভক্ত সমবেত হন। ‘বাপ্পা’র দর্শনের জন্য প্যান্ডেলের বাইরে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ভক্তরা ধৈর্যের সঙ্গে দর্শনের জন্য অপেক্ষা করেন।
মুম্বইয়ের বিখ্যাত সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরও গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। মন্দির ও সংলগ্ন এলাকায় উৎসবের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে গভীর ভক্তিময় পরিবেশ।
নাগপুরের বিখ্যাত গণেশ টেকড়ি মন্দিরেও সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়েছে। সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তি ও সার্বিক মঙ্গল কামনায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভক্তরা গণেশের পুজো ও দর্শন করছেন। ‘গণপতি বাপ্পা মোরিয়া’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে মন্দির চত্বর।
এক ভক্ত আইএএনএস-কে জানান, ১০ দিনের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দিরে ব্যাপক ভিড় হচ্ছে। প্রত্যেক ভক্ত যাতে সুষ্ঠুভাবে দর্শন করতে পারেন, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক লাইনের পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য ই-রিকশা ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আরেক ভক্ত বলেন, গণেশ চতুর্থীর প্রকৃত তাৎপর্য হল ভগবান গণেশ মানুষের জীবনের দুঃখ-কষ্ট দূর করে সুখ নিয়ে আসেন। তাই মানুষেরও উচিত অন্যকে কষ্ট না দিয়ে জীবনে অন্যদের মধ্যে সুখ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা।
–আইএএনএস



















