আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর: আমতলী থানার অন্তর্গত বিক্রমনগর হাসপাতাল চৌমুহনী এলাকায় একটি বাড়িতে কথিত অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধ্যায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বাইরে থেকে যুবতী ও মহিলাদের এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন বাসিন্দা ওই বাড়িতে গিয়ে অভিযান চালান। সেখানে দুই জোড়া যুবক-যুবতীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পাওয়ার দাবি করেন তারা। এরপর তাদের আটক করে স্থানীয়রা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে।
এরই মধ্যে ঘটনার আরও একটি ভিডিও ও অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ, কয়েকজন মহিলা এক মহিলার ওপর চড়াও হয়ে তাকে রাস্তায় ফেলে মারধর করেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মারধরের ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি ও এর কারণ এখনও পুলিশের তদন্তের বিষয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কয়েক মাস ধরে ওই এলাকায় একটি চক্র এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এই ঘটনায় আগরতলার ধলেশ্বর এলাকার বাসিন্দা প্রিয়ম বণিক নামে এক যুবকের নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনায় প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
অন্যদিকে, ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের কর্মী আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় এক মহিলা সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং সেটি ভেঙে ফেলেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আমতলী থানার পুলিশ। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে উত্তেজনার সুযোগে আরও কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় কারা জড়িত, অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের সত্যতা এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পলাতকদের সন্ধানেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় বেআইনি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা বন্ধ করতে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সমস্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি উঠেছে।
























