আগরতলা, ১৪ সেপ্টেম্বর: কমলাসাগর ভাদ্রমেলা প্রাঙ্গণে সুজিতা দাস খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে নয়ন নমকে। ঘটনার তদন্তে রবিবার ধৃত নয়ন নমকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় মধুপুর থানার পুলিশ। সঙ্গে ছিল ফরেনসিক দলের সদস্যরাও। কীভাবে এবং কোন অস্ত্র দিয়ে ওই গৃহবধূকে খুন করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতেই ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে তদন্ত করা হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতা সুজিতা দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মা গৌরী দাসের নেতৃত্বে পরিবারের সদস্যরা মধুপুর থানায় গিয়ে অভিযুক্ত সনজিৎ নম ও তাঁর ছেলে নয়ন নমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে মধুপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতেই হাঁপানিয়া হাসপাতাল থেকে নয়ন নমকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর রবিবার তাকে বিশালগড় মহকুমা আদালতে তোলা হলে তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য রিমান্ডের আবেদন করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওএনজিসি প্রথম গেট এলাকার বাসিন্দা সুজিতা দাস বিবাহিতা এবং তাঁর একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অন্যদিকে প্রীতম নমও বিবাহিত এবং তাঁর একটি ছেলে রয়েছে। অভিযোগ, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে প্রীতম তাঁর স্ত্রী-সংসার ছেড়ে সুজিতা দাসের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁর সঙ্গেই বসবাস করছিলেন। এই সম্পর্ক নিয়ে প্রীতমের বাবা সনজিৎ নম ও ছোট ভাই নয়ন নমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার দিন সুজিতা ও প্রীতম একসঙ্গে কমলাসাগর ভাদ্রমেলায় ঘুরতে যান। একই মেলায় ব্যবসার কাজে দোকান নিয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রীতমের বাবা সনজিৎ নম ও ভাই নয়ন নম। মেলা প্রাঙ্গণে সুজিতাকে নিয়ে প্রীতমকে ঘোরাফেরা করতে দেখে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, সনজিৎ দূর থেকে প্রীতমকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রীতম তাঁর বাবাকে আঘাত করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। তখন ভাইকে সরিয়ে বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন নয়ন নম। সেই সময় সুজিতা তাঁদের উপর আক্রমণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এরপর নয়ন মেলা প্রাঙ্গণ থেকে একটি ছুরি নিয়ে সুজিতার গলায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ।
গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় সুজিতা মেলা প্রাঙ্গণের কসবা ইকো পার্ক সংলগ্ন এলাকায় পড়ে যান। পরে তাঁকে মধুপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে জিবিপি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরই তদন্তে নামে মধুপুর থানার পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় নয়ন নমকে। এবার ধৃতকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুলিশের পাশাপাশি ফরেনসিক দলও বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ ও ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে। ঘটনার সময় কী ঘটেছিল এবং কীভাবে সুজিতার উপর হামলা চালানো হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সনজিৎ নম ও নয়ন নমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ধৃত নয়ন নমকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।



















