ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৩ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে কোনও এক মাসে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪৯। এখনও পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১ হাজার ৮৩৭ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালে ভর্তি হতে দেরি করা, ভুল চিকিৎসা এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের শারীরিক দুর্বলতার কারণে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। অনেক রোগী শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে যাওয়ার পর পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসছেন বলে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক এইচ এম নজমুল আহসান বলেন, সারা দেশে দ্রুত সংক্রমণ বাড়ার কারণেই সম্প্রতি ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নজমুলের মতে, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর পিছনে মূলত তিন ধরনের কারণ রয়েছে—ভাইরাসজনিত কারণ, রোগীর শারীরিক ঝুঁকি এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হুসেন ডেঙ্গু চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং তৃতীয় স্তরের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে তিন-স্তরীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
রবিবার বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সতর্ক করে বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আগামী মাসগুলিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তিনি মানুষকে এখন থেকেই সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ইউএনবিকে তিনি বলেন, “আগামী মাসগুলিতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই এখন থেকেই সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
বাংলাদেশের দৈনিক ‘প্রথম আলো’-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৬৪টি জেলাতেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন কয়েকশো মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। মূলত প্রতিরোধযোগ্য এই রোগে প্রায় প্রতিদিনই মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সরকার সতর্ক করেছে, সেপ্টেম্বরের শেষ এবং অক্টোবরের শুরুতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। অন্তত ১৫টি জেলায় সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত দেড় থেকে দুই মাস ধরে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং কীটতত্ত্ববিদদের একাংশ সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে আসছিলেন।
৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত জানান, দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ ইতিমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ এবং অক্টোবরের শুরুতে সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
‘প্রথম আলো’-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি নিয়ে বছরের পর বছর সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন এবং আলোচনা হলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের পর্যাপ্ত উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট। সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
–আইএএনএস



















