ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই বরিশাল জেলার একটি সংবাদপত্রের দফতর থেকে এক হিন্দু সাংবাদিকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের দৈনিক ‘সমকাল’-এর বরিশাল ব্যুরো অফিসের ভিতর থেকে ৫৭ বছর বয়সি প্রবীণ সাংবাদিক পুলক চট্টোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ‘সমকাল’-এর প্রাক্তন বরিশাল ব্যুরো প্রধান ছিলেন।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক আল মামুন-উল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
স্থানীয় সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশের ‘ঢাকা ট্রিবিউন’ জানিয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে ‘সমকাল’ থেকে পুলক চট্টোপাধ্যায়কে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তিনি বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া দীর্ঘদিন বাংলাদেশের আরেকটি দৈনিক ‘যুগান্তর’-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও এক কন্যা রয়েছেন।
এদিকে, পুলক চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ। শনিবার দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাঁর দেহের যে ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তা দেখে ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হচ্ছে না। দেহের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছে দলটি।
আওয়ামী লীগের বক্তব্য, দেহের দুই পা মাটিতে ছিল, হাঁটু ভাঁজ করা এবং শরীর প্রায় সোজা অবস্থায় ছিল। দলের দাবি, এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে কারও মৃত্যু হওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং ঘটনাটি সাজানো হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে।
আওয়ামী লীগ আরও দাবি করেছে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতে ইসলামি জোট সরকারের সময় সংখ্যালঘুদের ওপর যে ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, ২০২৬ সালে ফের সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। মন্দিরে হামলা, বাড়িঘরে আগুন, জমি দখল, মহিলাদের ওপর যৌন নির্যাতন এবং হিন্দুদের বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য করার মতো ঘটনার অভিযোগ তুলে দলটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
দলটির দাবি, পুলক চট্টোপাধ্যায় ওই সময় একজন সাংবাদিক হিসেবে ঘটনাগুলি প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং সেগুলি নিয়ে লেখালেখিও করেছিলেন। ফলে তাঁর মৃত্যু অতীতের ঘটনাগুলির সাক্ষ্যকে নীরব করার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগ বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের দমন, সাংবাদিকদের ওপর চাপ এবং ভিন্নমতকে দমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। দলের বক্তব্য, পুলক চট্টোপাধ্যায় একই সঙ্গে একজন সংখ্যালঘু, সাংবাদিক এবং ‘সমকাল’-এর ব্যুরো প্রধান ছিলেন—তাই তাঁর মৃত্যু নিয়ে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন।
পুলক চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ বলেছে, সত্যকে চাপা দেওয়া সম্ভব নয় এবং তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন সামনে এনেছে।
–আইএএনএস



















