নয়াদিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত ও চীন দুই দেশের শীর্ষ নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আয়োজন করছে। দুই নেতার কৌশলগত নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে বেজিং। শুক্রবার একথা জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ চিনা রাষ্ট্রদূত জানান, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য ভারত ও চিন প্রস্তুতি নিচ্ছে। কাজান (রাশিয়া) এবং তিয়ানজিনে (চিন) বৈঠকের পর টানা তৃতীয় বছর দুই নেতা পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছেন বলেও জানান তিনি।
শু ফেইহং বলেন, “চিন ভারতের সঙ্গে কাজ করে দুই নেতার কৌশলগত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। কৌশলগত উচ্চতা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনা করা, যোগাযোগ বৃদ্ধি, সহযোগিতা জোরদার এবং মতপার্থক্য যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হবে। পাশাপাশি দুই দেশ ভালো প্রতিবেশী হিসেবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং একে অপরের সাফল্যে সহযোগী অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।”
চিনের বিদেশ মন্ত্রক বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘোষণা করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।
এর আগে শুক্রবার বেজিংয়ে নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুনকে শি জিনপিংয়ের ভারত সফর সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও নিশ্চিত তথ্য দিতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ওই বিষয়ে তাঁর কাছে দেওয়ার মতো কোনও তথ্য নেই।
প্রায় সাত বছর পর এটি হবে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে শির ভারত সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারত বারবার স্পষ্ট করেছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য ভারত-চিন সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথোপকথন হয়েছিল। এবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
—আইএএনএস



















