নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর(আইএএনএস) : রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিরগিজস্তানের বিশকেকে দু’দেশের নেতার বৈঠকের দু’সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ফের তাঁদের সাক্ষাৎ হল। ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের পর ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, দিল্লিতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দেখা করে তিনি আনন্দিত। বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি ২০৩০ সালের অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়াও পরিকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময় বিশ্বের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন।
বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষতা ও মানবসম্পদ চলাচল এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
দুই নেতা রাশিয়ার আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী ‘ইনোপ্রম ইন্ডিয়া’-র আয়োজনকে স্বাগত জানান। ২০২৬ সালের ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ভারতে আয়োজিত এই প্রদর্শনী বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তাঁরা মত প্রকাশ করেন। বৈঠকের পর মোদি ও পুতিন প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রেও ভারত-রাশিয়া সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। বিশেষ করে ২০২৬ সালে ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের কার্যক্রম নিয়েও তাঁদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।
পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। এই সংঘাতগুলির ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রভাবিত হচ্ছে বলে বৈঠকে উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী ফের জানান, সংঘাতের সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতিই এগিয়ে যাওয়ার পথ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ভারত সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
বৈঠকের শেষে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বিশেষ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে দুই নেতা সম্মত হন। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও এই সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে চলেছে এবং তার স্থিতিস্থাপকতা প্রমাণ করেছে বলেও বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে।


















