নিউটাউন, ১২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে কালীঘাট মন্দিরে গিয়ে মাছ-সহ ভোগ গ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যেই তাঁর পাশে দাঁড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন মানুষের উপাসনার পদ্ধতি ও জীবনযাপন আলাদা হতে পারে। ব্যক্তিগত ধর্মীয় পছন্দকে বিতর্কের বিষয় করা উচিত নয়।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “অনেক জায়গায় মন্দিরে মাছ প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয়। উপাসনার পদ্ধতি, জীবনযাপন এবং ব্যক্তিগত পছন্দ আলাদা। তাই এটিকে আলোচনার বিষয় করা উচিত নয়। প্রত্যেকের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্ত তাঁদের উপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।”
এই মন্তব্যের কয়েকদিন আগে বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ গর্গ, যিনি ‘বাগেশ্বর বাবা’ নামে পরিচিত, পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন। হাওড়ার লিলুয়ায় তিন দিনের হনুমন্ত কথা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর শনিবার তাঁর জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেন শুভেন্দু অধিকারী।
লিলুয়ায় ভক্তদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাগেশ্বর বাবা পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো ও নবরাত্রির সময় প্যান্ডেলের আশপাশে আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, নবরাত্রি ও দুর্গাপুজোর সময় প্যান্ডেলের কাছে আমিষ খাবার রান্না করা তাঁর পছন্দ নয়। আগামী নবরাত্রিতে হিন্দুদের জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি ওই ধরনের খাবার পরিবেশনকারীদের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার কথাও বলেন।
তাঁর এই মন্তব্যের পর পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য পরোক্ষভাবে এর বিরোধিতা করে বলেন, “বাঙালিরা মাছ-মাংস খাবে না, এটা কীভাবে সম্ভব?” তিনি বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত মতামত বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে চলা বিতর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ঘাসফুল’ প্রতীক শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আলোচনা চলতেই থাকবে।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই দিল্লি যান, তাঁরাও গিয়েছেন। এখন অপেক্ষা করে দেখতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পিকার এবং নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেই সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই আসবে।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম, নির্বাচনী প্রতীক ও তহবিল সংক্রান্ত বিরোধে নির্বাচন কমিশন শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানা গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ, নাম, সম্পদ ও নির্বাচনী প্রতীকের ওপর নিজেদের দাবি জানিয়েছে।
দুই পক্ষের পাল্টা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার নয়াদিল্লিতে পৃথক বৈঠকের জন্য উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের ডেকেছে নির্বাচন কমিশন।
–আইএএনএস



















