মুম্বই, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মূল্যবান ধাতু পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ সোনার গুঁড়ো উদ্ধার করল ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স। অভিযানে প্রায় ৫.৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩.৫ কেজি সোনার গুঁড়ো উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিমানবন্দরের দুই কর্মীসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে ডিআইআর।
ডিআইআর-এর বিবৃতি অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া চারজনের মধ্যে দু’জন বিমানবন্দরের কর্মী এবং বাকি দু’জন ট্রানজিট যাত্রী। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, অভিযুক্তরা মুম্বই বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে সক্রিয় একটি আন্তর্জাতিক সোনা পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ঘটনায় আরও বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে ডিআইআর। বিমানবন্দরের মাধ্যমে কীভাবে সোনা পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত মাসেও একই ধরনের অভিযানে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে একটি ট্রেনযাত্রীর কাছ থেকে ৩ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সোনা উদ্ধার করেছিল ডিআইআর। গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে পাচার করে আনা সোনা ট্রেনে করে দেশের অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে নাগপুর ডিআইআর-এর একটি দল নাগপুর রেলস্টেশনে অভিযান চালায়।
অভিযানে এক যাত্রীকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাঁর কাছ থেকে ২.১৬৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া সোনার আনুমানিক মূল্য ছিল ৩.০৯ কোটি টাকা। ডিআইআর-এর কাছে তথ্য ছিল, পাচার করা সোনাটি ১২১০২ নম্বর জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে করে পরবর্তী গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হবে। সেই অনুযায়ী নাগপুর রেলস্টেশনে ফাঁদ পাতে ডিআইআর। যাত্রীর তল্লাশির সময় লুকিয়ে রাখা ১৬টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যপ্রাণী পাচারের বিরুদ্ধেও ছয়টি বড় অভিযান চালিয়েছে ডিআইআর। ওই অভিযানগুলিতে দুটি চিতাবাঘের চামড়া, ১৮০টি জীবিত ভারতীয় স্টার কচ্ছপ, ১২টি জীবিত টোকাই গেকো, প্রায় ২৪ কেজি প্যাঙ্গোলিনের আঁশ এবং ৫০০ গ্রাম বাঘের হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। এই ছয়টি অভিযানে অন্তত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ওড়িশার কোরাপুট জেলার জয়পুরেও ডিআইআর অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধার করে। পরে উদ্ধার হওয়া চামড়া এবং ধৃত ব্যক্তিকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের জন্য কোরাপুটের রাজ্য বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়।


















