মুম্বই, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মূত্রনালির সংক্রমণের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ১০ দিন পর বৃহস্পতিবার বোম্বে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন প্রবীণ সমাজকর্মী আন্না হাজারে। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তিনি জানান, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের সেবা করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আন্না হাজারে বলেন, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো। কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তবে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ৯০ বছর বয়সে পৌঁছেও তিনি ১০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থেকে মানুষের সেবা করে যেতে চান বলে জানান।
তিনি বলেন, ৯০ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি দেশ ও মানুষের সেবা করেছেন এবং আগামী দিনেও সেই কাজ চালিয়ে যেতে চান। তাঁর কথায়, নিঃস্বার্থভাবে কাজ করাই প্রকৃত সেবা। ঈশ্বরের উপাসনা শুধু মন্দিরে নয়, মানুষের সেবার মধ্যেও করা যায়—এটাই প্রকৃত ঈশ্বরের আরাধনা।
আন্না হাজারে আরও বলেন, যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন, ততদিন মানুষের সেবা করতে চান। সেবার জন্যই তিনি নিজের পুরো জীবন উৎসর্গ করেছেন। অর্থ-সম্পদ বা ব্যাংকে কত টাকা রয়েছে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেলেও নিজের জন্য অর্থ সঞ্চয় করেননি বলে জানান তিনি। তাঁর কাছে অর্থ বা সম্পদ নয়, মানুষের সেবাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, যে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আন্না হাজারে চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেই ডা. গৌতম ভানসালি জানান, প্রথমে ভাইরাল জ্বর ও ডায়রিয়ার সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। এর জন্য আগে শিরুরের একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়েছিল। পরে তীব্র জলশূন্যতা ও ভাইরাল সংক্রমণের কারণে মূত্র সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেয়।
চিকিৎসক জানান, তাঁর ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল এবং এর ফলে মূত্রনালিতে সংক্রমণ দেখা দেয়। সেই কারণেই তাঁকে বোম্বে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল।
আন্না হাজারের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তাঁর অনুগামী ও শুভানুধ্যায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেন।
ভারতের অন্যতম পরিচিত দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের কর্মী ও সমাজসংস্কারক আন্না হাজারে। মহারাষ্ট্রের নিজের গ্রাম রালেগাঁও সিদ্ধিকে জল সংরক্ষণ, বনসৃজন, গ্রামীণ স্বনির্ভরতা এবং নেশামুক্তির মতো বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে একটি আদর্শ গ্রামে পরিণত করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন।
–আইএএনএস
























