কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ভাষার পাঠ্যক্রমে আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে যুক্ত হওয়া বিদেশি শব্দগুলি চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতরের সিলেবাস পর্যালোচনা কমিটি।
স্কুলশিক্ষা দফতরের সূত্রের খবর, সম্প্রতি আয়োজিত তিন দিনের আবাসিক ইন্ডাকশন কর্মসূচিতে বাংলা পাঠ্যক্রমে থাকা এমন শব্দগুলি চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি হয়েছে। তবে ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় ব্যবহৃত বিদেশি শব্দগুলি নিয়ে কোনও আপত্তি নেই বলে দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতরের মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাষার স্বাভাবিক প্রবাহের মাধ্যমে ‘চেয়ার’, ‘টেবিল’, ‘বারুদ’ এমনকি ‘সরকার’-এর মতো বিদেশি উৎসের শব্দ বাংলার অংশ হয়ে উঠেছে। এগুলি বাংলা পাঠ্যক্রমে থাকা নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। আপত্তি মূলত আগের সরকারের আমলে কিছু বিদেশি শব্দকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ও জোর করে বাংলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে।
মন্ত্রী জানান, ‘মা’-এর পাশাপাশি মায়ের অর্থে ‘আম্মা’ শব্দটি পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। একইভাবে স্নানের অর্থে প্রচলিত ‘স্নান’-এর পাশাপাশি ‘গোসল’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।
এছাড়া প্রাতরাশ বা জলযোগের পরিবর্তে ‘নাশতা’, আকাশের পরিবর্তে ‘আসমান’ এবং ভোরের পরিবর্তে ‘ফজর’-এর মতো শব্দ পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা নিয়েও আপত্তি রয়েছে বলে তিনি জানান। শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, যখন বাংলা ভাষায় ‘প্রাতরাশ’ বা ‘জলযোগ’, ‘আকাশ’ এবং ‘ভোর’-এর মতো উপযুক্ত শব্দ আগে থেকেই রয়েছে, তখন এই শব্দগুলি অপ্রয়োজনীয়ভাবে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন ছিল না।
চলতি মাসের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এক জনসভায় বাংলা ভাষার পাঠ্যক্রমে এমন বিদেশি শব্দ যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাংলা সিলেবাসকে পরিকল্পিতভাবে এমনভাবে পরিবর্তন করেছিল, যাতে বাংলাভাষী মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়।
৩ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যাভারতীর রাজ্যস্তরের সহযোগী সংগঠন বিবেকানন্দ বিদ্যা বিকাশ পরিষদের একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে বাংলা পাঠ্যক্রম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে শিক্ষাব্যবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষাভাবনা ও অবদান যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। তাঁর দাবি, ভাষার এই ধরনের বিকৃতির মাধ্যমে শিশুদের মনেও বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল।
–আইএএনএস



















