নয়াদিল্লি, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ১৯৯৩ সালের মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত আবু সালেমের জেল থেকে অকাল মুক্তির আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আবেদন খারিজ করে দেয়।
আবু সালেম দাবি করেছিলেন, বিচারাধীন অবস্থায় জেলে কাটানো সময়, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর কারাবাস এবং জেলে ভালো আচরণের জন্য অর্জিত রেমিশন বা সাজা মকুবের সময় হিসাব করলে তিনি সর্বোচ্চ ২৫ বছরের সাজা ইতিমধ্যেই পূর্ণ করেছেন। সেই ভিত্তিতে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।
বর্তমানে নাসিক রোড সেন্ট্রাল জেলে বন্দি সালেম বম্বে হাইকোর্ট তাঁর তাৎক্ষণিক মুক্তির আবেদন খারিজ করার পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বম্বে হাইকোর্ট ১৫ এপ্রিলের রায়ে জানিয়েছিল, সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত ২৫ বছরের মেয়াদ সাধারণ জেল রেমিশনের মাধ্যমে কমানো যায় না।
হাইকোর্টের মতে, ২৫ বছরের মেয়াদই সালেমের কার্যকর সাজা এবং এটি সাধারণ কারা-রেমিশনের মাধ্যমে কমানোর মতো কোনও সর্বোচ্চ সীমা নয়। জেল কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী অর্জিত রেমিশনকে সাজা কমানোর ক্ষেত্রে যুক্ত করার চেষ্টা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও আদালত জানিয়েছিল।
পর্তুগাল থেকে প্রত্যর্পণের পর ২০০৫ সালের নভেম্বর মাসে ভারতে আনা হয় আবু সালেমকে। ২০০৫ সালের ১১ নভেম্বর তাঁকে ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণ মামলায় টাডা আদালতে হাজির করা হয়। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাডা মামলায় তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণ মামলাতেও তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুটি সাজা একইসঙ্গে চলার নির্দেশ ছিল।
২০২২ সালের জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি বহাল রাখলেও পর্তুগালকে দেওয়া ভারতের সরকারের সার্বভৌম আশ্বাসের কথা বিবেচনা করে তাঁর মোট কারাবাসের মেয়াদ ২৫ বছরে সীমাবদ্ধ করে। ওই আশ্বাস অনুযায়ী, সালেমকে ২৫ বছরের বেশি কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে না।
সুপ্রিম কোর্ট একইসঙ্গে নির্দেশ দিয়েছিল, ২৫ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩২ ও ৪৩৩ ধারার অধীনে রেমিশনের বিষয়টি সরকারকে বিবেচনা করতে হবে।
সালেমের দাবি ছিল, ভালো আচরণের জন্য তিনি প্রায় তিন বছরের রেমিশন অর্জন করেছেন এবং বিচারাধীন অবস্থার কারাবাস ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরের কারাবাসের সময় যোগ করলে ২৫ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তবে বম্বে হাইকোর্ট জানিয়েছিল, কারা-নিয়মের অধীনে অর্জিত রেমিশন প্রশাসনিক প্রকৃতির এবং তা আদালতের নির্ধারিত সাজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিয়ে দেয় না।
হাইকোর্টের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ১১ নভেম্বর গ্রেপ্তারের দিন থেকে গণনা করলে ২৫ বছরের মেয়াদ ২০৩০ সালের নভেম্বরে শেষ হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত ২৫ বছরের মেয়াদ রেমিশনের কারণে আরও কমানোর প্রশ্ন নেই বলেও হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছিল।
এর আগে অকাল মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন সালেম। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শীর্ষ আদালত তাঁকে সেই আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়ে বম্বে হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন করার স্বাধীনতা দিয়েছিল।
–আইএএনএস


















