তিরুবনন্তপুরম, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): সিএমআরএল-এক্সালজিক মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়েরের জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দাবির পর সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে কেরল সরকার। সূত্রের খবর, এফআইআর দায়েরের আগে ভিজিল্যান্সের মাধ্যমে প্রাথমিক যাচাই বা ‘কুইক ভেরিফিকেশন’ করা হতে পারে।
রাজ্য পুলিশ প্রধানের কাছে পাঠানো ইডির চিঠির ভিত্তিতেই সরাসরি এফআইআর দায়ের করা যায় কি না, তা নিয়ে আইনি মহলে প্রশ্ন ওঠায় সরকার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আইনি আলোচনা করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আনুষ্ঠানিক আইনি মতামতের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।
সিএমআরএল-এক্সালজিক-এর আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিনারাই বিজয়ন ও অন্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে ইডি। এ বিষয়ে রাজ্য পুলিশ প্রধান রাভাদা এ. চন্দ্রশেখরের কাছে ২৫ পাতার একটি রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সরকারের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী, ইডির রিপোর্টে থাকা অভিযোগগুলির পর্যাপ্ত তথ্যগত ও প্রমাণগত ভিত্তি রয়েছে কি না, তা প্রথমে ভিজিল্যান্সের প্রাথমিক যাচাইয়ের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। এরপরই এফআইআর দায়েরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তবে আইনি মহলের একাংশের বক্তব্য, কোনও আমলযোগ্য অপরাধের প্রাথমিক উপাদান পাওয়া গেলে এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রে আইনগত বাধা নেই। যদিও স্বাধীনভাবে প্রাথমিক যাচাই না করে এফআইআর দায়ের করা হলে পরবর্তীতে তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার।
এই মামলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর অধীনে ইডির রেকর্ড করা বয়ানের প্রমাণমূল্য। ইডির সুপারিশে সিএমআরএল-এর চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার এবং ইডির মামলায় অভিযুক্ত পি. সুরেশ কুমারের বয়ানের ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পিএমএলএ-র অধীনে চলা মামলায় এই ধরনের বয়ানের প্রমাণমূল্য থাকলেও, কোনও অভিযুক্ত ব্যক্তির বয়ান একাই দুর্নীতি দমন আইনের অধীনে ভিজিল্যান্স মামলা দায়েরের ভিত্তি হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে স্বাধীনভাবে পাওয়া সমর্থনকারী প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সিএমআরএল-এক্সালজিক বিষয়ক অন্তর্বর্তী সেটেলমেন্ট বোর্ডের পর্যবেক্ষণের ওপরও ইডি নির্ভর করেছে। বোর্ডের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের মেয়ে টি. বীণার মালিকানাধীন এক্সালজিক সলিউশনস-কে সিএমআরএল অর্থ প্রদান করেছিল এবং এর পেছনে বীণা মুখ্যমন্ত্রীর মেয়ে—এই বিষয়টি বিবেচনায় ছিল।
এই বোর্ডের পর্যবেক্ষণ এখনও আইনিভাবে খারিজ হয়নি—বিষয়টিকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।
অভিযোগে জড়িত সিএমআরএল-এর শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে শশীধরন কার্থা এবং অন্যদেরও ভবিষ্যতে ভিজিল্যান্স তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে।
এর পাশাপাশি, কংগ্রেস নেতা ম্যাথিউ কুঝালনাদানের সিএমআরএল-এক্সালজিক লেনদেনের বিরুদ্ধে ভিজিল্যান্স তদন্ত চেয়ে করা আবেদন কেরল হাইকোর্ট আগে খারিজ করেছিল—সেই বিষয়টিও মাথায় রাখছে সরকার।
এদিকে, সিপিআই(এম) রাজনৈতিক ও আইনি—দুই দিক থেকেই ইডির অভিযোগের মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অ্যাডভোকেট জেনারেলের আইনি মতামত পাওয়ার পরই এফআইআর দায়ের করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এদিকে সূত্রের খবর, ইডি সিএমআরএল-এর আধিকারিকদের সোমবার হাজির হওয়ার জন্য নোটিস পাঠিয়েছে।


















