লখনউ, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) সুপ্রিমো মায়াবতী বৃহস্পতিবার তাঁর ভাতিজা আকাশ আনন্দকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আকাশ আনন্দের শ্বশুর তথা প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ অশোক সিদ্ধার্থের রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। মায়াবতীর দাবি, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কের প্রতি আকাশ আনন্দের টান তাঁর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলের স্বার্থের প্রতি উদ্বেগের চেয়ে বেশি বলে মনে হয়েছে।
অশোক সিদ্ধার্থ, যিনি গত ২ আগস্ট কথিত দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে দ্বিতীয়বারের জন্য বিএসপি থেকে বহিষ্কৃত হন, বুধবার রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা করেন। এর একদিন আগে মায়াবতী বলেছিলেন, তাঁর ভাতিজা তথা সিদ্ধার্থের জামাই আকাশ আনন্দকে দলের মধ্যে ফের রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হলে সিদ্ধার্থের অবসর নেওয়া প্রয়োজন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া একটি বিস্তারিত পোস্টে অবসরের ঘোষণা করে সিদ্ধার্থ মায়াবতী ও বিএসপির প্রতি তাঁর আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দলের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
বৃহস্পতিবার ‘এক্স’-এ মায়াবতী বলেন, অশোক সিদ্ধার্থের রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা “অনেক দেরিতে নেওয়া হলেও সঠিক পদক্ষেপ”। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত আরও আগে নেওয়া হলে বিএসপি, বহুজন সমাজ, বহুজন আন্দোলন এবং আকাশ আনন্দকে বারবার প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। একই সঙ্গে দল ও আন্দোলনের স্বার্থে আকাশ আনন্দের বিরুদ্ধে তাঁকেও একাধিকবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হতো না।
মায়াবতী বলেন, বিএসপির অনুসৃত আম্বেদকরবাদী রাজনৈতিক ঐতিহ্য ত্যাগ, নিষ্ঠা, সংগ্রাম ও নিঃস্বার্থতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বৃহত্তর আন্দোলনের স্বার্থে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থকে পিছনে রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিএসপি সুপ্রিমো প্রশ্ন তোলেন, অশোক সিদ্ধার্থ যদি সত্যিই তাঁর জামাই আকাশ আনন্দের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং বিএসপির স্বার্থ নিয়ে চিন্তিত হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি এতদিন অপেক্ষা করলেন কেন। মায়াবতীর দাবি, সিদ্ধার্থ আরও আগে অবসর ঘোষণা করলে আকাশ আনন্দের দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার পথ সুগম হতে পারত।
মায়াবতী আরও অভিযোগ করেন, তাঁর সাম্প্রতিক ‘এক্স’ পোস্ট, যা আকাশ আনন্দেরই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের স্বার্থে করা হয়েছিল, সেটিও আকাশ আনন্দ পুনরায় পোস্ট করেননি। তাঁর বক্তব্য, এর আগে সিদ্ধার্থ ও আকাশ আনন্দ নিয়মিতভাবে মায়াবতীর পোস্ট পুনরায় শেয়ার করে তাঁদের আনুগত্য প্রদর্শন করতেন।
মায়াবতীর মতে, এবার দলের পোস্ট পুনরায় শেয়ার না করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, দু’জনের কাছেই বিএসপি ও আন্দোলনের স্বার্থের তুলনায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও দলীয় দায়িত্বের মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ত থাকা অবস্থায় আকাশ আনন্দ কীভাবে কার্যকরভাবে বিএসপি ও আন্দোলনের জন্য কাজ করবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এরপরই আকাশ আনন্দকে দল থেকে সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মায়াবতী। তিনি জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর আকাশ আনন্দকে বিএসপির গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আহ্বায়ক পদ-সহ সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার তাঁকে অবিলম্বে দল থেকেও সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করা হল।
মায়াবতী বলেন, আকাশ আনন্দ যদি দলের বাইরে স্বাধীনভাবে থাকতে চান, তাহলে তিনি তা করতে পারেন। অর্থাৎ, তাঁকে এখন সম্পূর্ণভাবে দল থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
দলের কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মায়াবতী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিভিন্ন কৌশল—সমঝোতার চেষ্টা, প্রলোভন, চাপ সৃষ্টি এবং বিভাজনের—বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার কথা বলেন। তিনি কর্মীদের শরীর, মন ও সামর্থ্য দিয়ে বিএসপির রাজনৈতিক সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
উত্তরপ্রদেশে ফের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করাই দলের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করে মায়াবতী বলেন, কার্যকর আইনশৃঙ্খলা, শক্তিশালী উন্নয়ন এবং ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’-এর নীতির ভিত্তিতে একটি ‘আয়রন রুল’ প্রতিষ্ঠাই বিএসপির চূড়ান্ত লক্ষ্য।
(আইএএনএস)


















