শিলং, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পরিযায়ী শ্রমিকদের শনাক্তকরণ, নথিভুক্তিকরণ, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়মে সংশোধন আনল মেঘালয় সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মেথোডিয়াস ডখার জানান, নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য হল শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে তাঁদের দ্রুত সহায়তা করার জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য রাখা। তবে এই নথিভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া যেন কোনওভাবেই শ্রমিক বা নিয়োগকর্তাদের হয়রানির কারণ না হয়ে ওঠে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করেন তিনি।
রাজ্যস্তরের একটি উদ্বোধন ও ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে সংশোধিত ‘মেঘালয় আইডেন্টিফিকেশন, রেজিস্ট্রেশন, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অব মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স (এমআইআরএসএস) রুলস, ২০২০’ প্রকাশ করা হয়। একই অনুষ্ঠানে জরিমানার অর্থ প্রদানের জন্য ই-পেমেন্ট গেটওয়ে এবং এমআইআরএসএস সংশোধনী আইন ও নিয়ম কার্যকর করার জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি)-ও চালু করা হয়।
ডখার বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের কোথায় এবং কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য থাকা জরুরি। এর ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে সরকার তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারবে। তবে নথিভুক্তিকরণের নামে শ্রমিক বা নিয়োগকর্তাদের হয়রানি করা যাবে না।
সংশোধিত কাঠামো কার্যকর করতে শ্রম দফতর, পুলিশ, জেলা প্রশাসন, নিয়োগকর্তা, ঠিকাদার, ট্রেড ইউনিয়ন, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দেন শ্রমমন্ত্রী। তিনি জেলাশাসক ও জেলা স্তরের আধিকারিকদের শ্রম দফতরের কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। সচেতনতা বৃদ্ধি, সহায়তা প্রদান, পরিদর্শন এবং আইন প্রয়োগকে এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের অভিযোগ মোকাবিলায় পুলিশ ও শ্রম দফতরের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। হয়রানি, ভয় দেখানো, বৈষম্য, শারীরিক আঘাত বা অন্য কোনও বেআইনি কাজের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা দ্রুত নথিভুক্ত করে আইন অনুযায়ী তদন্ত করতে হবে বলে জানান ডখার।
তিনি আরও বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকরা যে রাজ্যগুলি থেকে মেঘালয়ে আসেন, সেই রাজ্যগুলির সঙ্গেও সমন্বয় বাড়াতে হবে। বিশেষ করে শ্রমিকদের পরিচয় শনাক্তকরণ, যাচাই, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া এবং কল্যাণমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আন্তঃরাজ্য সহযোগিতা প্রয়োজন।
মেথোডিয়াস ডখার বলেন, মেঘালয়ের অর্থনীতিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নির্মাণ, পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পর্যটন ও আতিথেয়তা, কৃষি, খনি এবং উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁরা কাজ করছেন। শ্রমিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়োগকর্তা, ঠিকাদার, শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিতে হবে এবং সরকার নির্ধারিত সুবিধা ও সুরক্ষা যাতে তাঁরা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।
একইসঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা বলেন শ্রমমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নথিভুক্তিকরণের সময় সংগৃহীত তথ্য শুধুমাত্র বৈধ সরকারি উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করতে হবে এবং দায়িত্বশীলভাবে তা সংরক্ষণ ও পরিচালনা করতে হবে।
সংশোধিত এই কাঠামোর মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মেঘালয়ের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত শ্রমিকদের শনাক্ত, নজরদারি এবং জরুরি সময়ে সহায়তা করার ক্ষেত্রে সরকারের সক্ষমতাও বাড়বে।



















