আগরতলা, ১১ সেপ্টেম্বর: জনসাধারণের স্বার্থে কাজ করার বদলে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের বিতর্কে সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েত। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে নগর পঞ্চায়েতের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার সুনীতি নমঃ মল্লিক। অভিযোগ, নগর পঞ্চায়েতের অর্থে ঠাকুরমুড়া এলাকায় তাঁর বাড়ির সীমানা ঘেঁষে গার্ড ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। আর এই নির্মাণকাজ ঘিরেই ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কমিশনারের বাড়ির সীমানার মধ্যে থাকা একটি ঘরকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই সরকারি অর্থে ওই গার্ড ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। যদিও নির্মাণকাজের পেছনে জনস্বার্থের যুক্তি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বাসিন্দাদের প্রশ্ন, সত্যিই যদি এটি জনস্বার্থে নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তাহলে এলাকার দীর্ঘদিনের জল নিকাশি, রাস্তা ও গার্ড ওয়াল সংক্রান্ত সমস্যাগুলির সমাধান আগে করা হচ্ছে না কেন? তাঁদের দাবি, বর্ষাকালে এলাকার একাধিক জায়গায় জল জমে সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। কিন্তু সেই সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান না করে একজন জনপ্রতিনিধির বাড়ির সামনে গার্ড ওয়াল নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাস্তার জল গড়িয়ে এক বাসিন্দার বাড়িতে ঢুকে তাঁর শৌচালয়ের ট্যাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য এক বাসিন্দার বাড়ির দেওয়ালেও গুরুতর ফাটল দেখা দিয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
এছাড়াও কমিশনারের বাড়ির সামনের রাস্তার পিছনের অংশে বসবাসকারী মানুষজনের অভিযোগ, বর্ষাকালে জল জমে যাওয়ায় ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে গার্ড ওয়ালের প্রয়োজন থাকলেও সেই সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
অন্যদিকে, কমিশনারের বাড়ির সামনে গার্ড ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, সরকারি অর্থে এই গার্ড ওয়াল নির্মাণ হয়ে গেলে ভবিষ্যতে ওই নির্মাণকেই ব্যবহার করে কমিশনার নিজের বাড়ির সীমানা প্রাচীরের কাজ অনেক কম খরচে সম্পন্ন করতে পারবেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে নির্মাণকাজ হলে তার সুফল এলাকার সাধারণ মানুষের পাওয়া উচিত। কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা বাড়িকে পরোক্ষভাবে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলে তার স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।
তবে স্থানীয়দের তোলা এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিশনার কিংবা সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে গার্ড ওয়ালটি ঠিক কোন উদ্দেশ্যে এবং কী সরকারি প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন বলে দাবি স্থানীয়দের।



















