কোটা, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাজস্থানের চলমান নগর স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনে শুক্রবার কোটা শহরের শক্তিনগরের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। ভোট দেওয়ার পর তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে সর্বোচ্চ সংখ্যায় ভোটদানের আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের অংশগ্রহণ যত বাড়বে, গণতন্ত্র ততই শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান হবে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিও জনগণের কাছে আরও বেশি জবাবদিহিমূলক হয়ে উঠবে।
ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওম বিড়লা বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নাগরিকরাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও সুসংহত করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে মানুষের অংশগ্রহণ যত বেশি হয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও তত বেশি শক্তিশালী হয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলি জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে।
তিনি বলেন, “গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান করার ক্ষেত্রে ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই রাজ্যের সর্বত্র মানুষকে সর্বোচ্চ সংখ্যায় ভোট দেওয়ার এবং সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করছি।”
শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে রাজস্থানে নগর স্থানীয় সংস্থার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের ১৪৭টি নগর স্থানীয় সংস্থায় ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬টি পৌর নিগম, ২০টি পৌর পরিষদ এবং ১২১টি পুরসভা।
এই দফায় মোট ৮৭ লক্ষ ৬০ হাজার ৮৮৪ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। ৪,৮৫২টি ওয়ার্ডে মোট ৯,৭৫৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় মোট ১৮,২৬৬ জন প্রার্থীর রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজস্থানের মোট ৩০৯টি নগর স্থানীয় সংস্থার নির্বাচন সম্পন্ন হবে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হবে।
রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মাও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে মানুষকে বিপুল সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি ভোট নগর উন্নয়ন, উন্নত নাগরিক পরিষেবা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে। প্রথমবারের ভোটারদেরও উৎসাহের সঙ্গে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতদের ভোটদানে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে বুধবার রাজস্থানের ১৬২টি নগর স্থানীয় সংস্থায় অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটদানের হার প্রকাশ করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। চূড়ান্ত হিসাবে ভোট পড়েছে ৭৬.৪১ শতাংশ। প্রতাপগড়ের অর্ণোদ পুরসভায় সর্বোচ্চ ৯১.৯৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে ভিলওয়াড়া পৌর নিগমে সর্বনিম্ন ৬৩.৮৪ শতাংশ ভোট পড়ে।
প্রথমে রাজ্য নির্বাচন কমিশন সামগ্রিক ভোটদানের হার ৭৬.০৪ শতাংশ বলে জানিয়েছিল। পরবর্তী সংশোধনের পর চূড়ান্ত ভোটদানের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬.৪১ শতাংশ। চিত্তৌড়গড় পৌর পরিষদের ভোটদানের হারও সংশোধন করে ৬১.৪৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬৮.১৫ শতাংশ করা হয়েছে।



















