নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত সিং।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ জানায়, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ব্রিকসের অংশীদার হিসেবে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থে দুই দেশের অঙ্গীকারও অটুট রয়েছে।
২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। সেই সূত্রে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। সম্মেলনে ব্রিকস সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন আমন্ত্রিত দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সম্মেলনে ব্রিকসের অভিন্ন অগ্রাধিকারের বিষয়গুলিতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে রাষ্ট্রনেতারা মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।
রামাফোসার সফরের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের দফতর জানায়, ব্রিকস সম্মেলনকে দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করবে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশেষ করে ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়ন ও মূল্য সংযোজনকে উৎসাহিত করা এবং আফ্রিকান মহাদেশীয় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আফ্রিকার পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রামাফোসা ব্রিকস বিজনেস ফোরামের লিডার্স ডায়ালগেও অংশ নেবেন। সেখানে ব্রিকসের রাষ্ট্রনেতা এবং বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল, কৃষি, মহিলাদের নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং উদ্ভাবনের মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে।
ব্রিকস বিজনেস কাউন্সিল এবং ব্রিকস উইমেন’স বিজনেস অ্যালায়েন্সের দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিরাও ওই ফোরামে অংশ নেবেন। এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শুক্রবার বলেন, আগামী কয়েকদিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্রনেতারা ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে আসবেন। বিশ্বের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে সম্মেলনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক ও অর্থবহ আলোচনা হবে বলে তিনি আশাবাদী।


















