নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রস্তাবিত ভারত-ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। শুক্রবার ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের বাণিজ্যমন্ত্রী আন্দ্রে স্লেপনেভের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ পীযূষ গোয়েল জানান, ভারত-ইএইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা দ্রুত শেষ করা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, বৈঠকে ওষুধ, প্রযুক্তি এবং গাড়ি শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভারত ও ইএইউ-র মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়েছে।
ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি হল আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান এবং রাশিয়া। ভারত ও ইএইউ-র মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হল দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বাজারে পণ্য ও পরিষেবার প্রবেশাধিকার আরও সহজ করা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারতের প্রচেষ্টার মধ্যেই ইএইউ-র সঙ্গে আলোচনাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে পীযূষ গোয়েল জানিয়েছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশই ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে রয়েছে এবং দ্রুত চুক্তিটি কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায়। তাঁর দাবি ছিল, উভয় পক্ষের সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলির স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেই চুক্তিটি দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে এবং ভারত বা ইইউ, কোনও পক্ষেই এ নিয়ে বিরোধিতা নেই।
ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে শ্রমনির্ভর ক্ষেত্রগুলির মধ্যে মৎস্য, বস্ত্র ও জুতো শিল্প বিশেষভাবে লাভবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাসায়নিক ও ওষুধজাত পণ্যের রফতানিও বাড়তে পারে।
সরকার একইসঙ্গে ভারতের নতুন বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্যিক গুরুত্ব বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেছে। নতুন মুক্ত বাণিজ্য অংশীদারদের বাজারে রফতানি বৃদ্ধি, অগ্রাধিকারমূলক উৎস শংসাপত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ধরনের পণ্য রফতানির পরিমাণ বাড়ার বিষয়টি ইতিমধ্যেই ইতিবাচক ফলাফল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারের আগস্টে প্রকাশিত তথ্যপত্র অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের পণ্য ও পরিষেবা মিলিয়ে মোট রফতানি রেকর্ড ৮৬৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে পণ্য রফতানির পরিমাণ ছিল ৪৪১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।


















