গান্ধীনগর, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): শুধুমাত্র বৃষ্টিপাতের ঘাটতির ভিত্তিতে গুজরাটের কোনও জেলাকে খরাপ্রবণ ঘোষণা করা হবে না বলে শুক্রবার বিধানসভায় জানাল রাজ্য সরকার। ফসলের পরিস্থিতি, মাটির আর্দ্রতা, ভূগর্ভস্থ জলের স্তরসহ বিভিন্ন বিষয়ের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং সরেজমিনে যাচাইয়ের পরই খরা ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
অল্প বৃষ্টিপাতের কারণে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় খরার সম্ভাবনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গুজরাট বিধানসভার কার্যপ্রণালীর ১১৬ নম্বর বিধির অধীনে নোটিস দিয়েছিলেন কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা ড. তুষার চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অমিত চাভদা, ড. কিরিত প্যাটেল এবং বিমল চুড়াসামা।
রাজস্ব দপ্তরের পক্ষ থেকে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী ঋষিকেশ প্যাটেল ওই নোটিসের জবাব দেন। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের বক্তব্য পড়ে তিনি জানান, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গুজরাটে মরশুমের গড় বৃষ্টিপাতের ৭৫.৪৩ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছে। মোট ৬৮৫.৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ গুজরাটে গড় বৃষ্টিপাতের ১০৩.৯১ শতাংশ বৃষ্টি হলেও সৌরাষ্ট্র, কচ্ছ এবং উত্তর গুজরাটের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিপাত ছিল অসম। দেবভূমি দ্বারকায় গড় বৃষ্টিপাতের মাত্র ৬.৪১ শতাংশ, পোরবন্দরে ১৮.১২ শতাংশ, জামনগরে ২৮.৮৮ শতাংশ এবং কচ্ছে ২৯.২৯ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছে।
তবে বর্তমান কৃষি পরিস্থিতি অবিলম্বে খরা ঘোষণার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে দাবি করেছে সরকার। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যে ৮০.৩৯ লক্ষ হেক্টর জমিতে বপন সম্পন্ন হয়েছে, যা স্বাভাবিক বপনযোগ্য ৮৫.৩০ লক্ষ হেক্টরের ৯৪.২৪ শতাংশ।
সরকার জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের বপন স্বাভাবিক মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। চিনাবাদাম বপন হয়েছে স্বাভাবিকের ১০৭.৯৯ শতাংশ, ডাল ১০৭.১৭ শতাংশ, সয়াবিন ১০৮.০৪ শতাংশ এবং ধান ১০১.৪৫ শতাংশ জমিতে। তুলার বপন হয়েছে স্বাভাবিকের ৯০.০৭ শতাংশ।
জলের পরিস্থিতিও সরকার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। সরদার সরোবর বাঁধের জলধারণ ক্ষমতার ৮৮.৬০ শতাংশ জল মজুত রয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য ২০৬টি জলাধারে মোট ৬৬.০৭ শতাংশ জল রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি বাঁধকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, পানীয় জলের জন্য নর্মদা অববাহিকা থেকে ২০ লক্ষ একর-ফুট জল সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নর্মদা কমান্ড এলাকায় খরিফ মরশুমে ১৭.৩৮ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের জন্য জল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সৌরাষ্ট্র ও উত্তর গুজরাটেও সাউনি এবং সুজলাম সুফলাম প্রকল্পের মাধ্যমে পানীয় ও সেচের জল সরবরাহ করা হচ্ছে।
দাঁড়িয়ে থাকা ফসল রক্ষায় ২১টি জেলার ১৩২টি তালুকা-গোষ্ঠীতে কৃষিকাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ ৮ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১০ ঘণ্টা করা হয়েছে। এর মধ্যে কচ্ছ, জামনগর, দেবভূমি দ্বারকা, পোরবন্দর, রাজকোট, মেহসানা, বোটাদ এবং সবরকাঁঠা রয়েছে। অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের জন্য স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কেনার ব্যবস্থাও করেছে গুজরাট উর্জা বিকাশ নিগম লিমিটেড।
পশুখাদ্যের ক্ষেত্রেও জুলাই থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী ভর্তুকি মূল্যে পশুখাদ্য বিতরণের জন্য জেলা শাসকদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৪০২.৫৪ লক্ষ কেজি পশুখাদ্য মজুত রয়েছে। ইতিমধ্যে কচ্ছ, দেবভূমি দ্বারকা, জামনগর, সুরেন্দ্রনগর ও পোরবন্দর জেলার ৫৭২টি গ্রামের ৫১,৮০২ জন পশুপালকের ১,৩১,৫০৫টি পশুর জন্য ৩১ লক্ষ কেজি পশুখাদ্য ভর্তুকি মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
প্রভাবিত গ্রামগুলিতে ফসল কাটার আগে, খরিফ মরশুম শেষ হওয়ার সময় এবং ৩১ অক্টোবরের মধ্যে জিপিএস বা স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ১০ শতাংশ জমির সরেজমিন যাচাইয়ের বিধান রয়েছে। ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের পরই খরা ঘোষণার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সরকার আরও জানিয়েছে, বৃষ্টি, জল, বিদ্যুৎ ও পশুখাদ্যের পরিস্থিতি প্রতিদিন মন্ত্রিসভার বৈঠক এবং মুখ্যসচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটির বৈঠকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। খরা পরিস্থিতিতে সাধারণত যে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যেমন ভর্তুকি মূল্যে পশুখাদ্য, পর্যাপ্ত পানীয় ও সেচের জল এবং পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ, সেগুলির ব্যবস্থা আগাম করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি বৃষ্টির ঘাটতিতে থাকা গুজরাটের এলাকাগুলিকে সরকারি ভাবে খরাপ্রবণ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, কৃষক ও গ্রামীণ এলাকার মানুষকে দ্রুত সরকারি সহায়তা দিতে হলে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মূল্যায়ন প্রয়োজন।
সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির তীব্র ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই বিরোধীদের এই দাবি সামনে এসেছে। একইসঙ্গে চলতি বিধানসভা অধিবেশনে ভাবনগরের বিষমদ-কাণ্ড-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে কংগ্রেস বিধায়কদের বিক্ষোভও অব্যাহত রয়েছে।
























