মুম্বই, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভারতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও বাধাহীন হাইওয়ে টোল ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গডকরি। এই ব্যবস্থায় টোল প্লাজার সামনে গাড়ি থামিয়ে টোল দিতে হবে না।
শুক্রবার মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্ট ২০২৬’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে গডকরি জানান, ফাসট্যাগ-এর পাশাপাশি গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে টোল আদায়ের নতুন ব্যবস্থা চালু করার দিকে এগোচ্ছে কেন্দ্র। এর ফলে টোল আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলেও জানান তিনি।
গডকরি বলেন, “নম্বরপ্লেট এবং ফাসট্যাগ দু’টিই ব্যবহার করে যে টোল ব্যবস্থা আমরা চালু করব, তাতে বছরে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা টোল রাজস্ব আসবে।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, টোল প্লাজায় গাড়ির অপেক্ষার সময় কখনও ১২ মিনিট পর্যন্ত থাকত। কিছু ক্ষেত্রে তা ৩০ মিনিটেও পৌঁছে যেত। ব্যবহারের ফলে সেই অপেক্ষার সময় ইতিমধ্যেই ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমেছে। এবার প্রযুক্তির মাধ্যমে বাকি বিলম্বও দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ফাসট্যাগ-এর তথ্যের পাশাপাশি গাড়ির নম্বরপ্লেট ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে টোলযুক্ত সড়কে গাড়ি শনাক্ত ও তার গতিবিধি আরও কার্যকরভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলে জানান গডকরি। ফলে টোল আদায়ের ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।
গডকরি বলেন, ফাসট্যাগ ইতিমধ্যেই টোল আদায়ের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। টোল প্লাজায় নগদ টাকা বা খুচরোর প্রয়োজনীয়তা দূর করার পাশাপাশি অপেক্ষার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এবার পরবর্তী ধাপে টোল দেওয়ার জন্য গাড়িকে টোল প্লাজায় থামানোর প্রয়োজনীয়তাও দূর করা হবে।
উল্লেখ্য, টোল প্রদানের পদ্ধতিকে আধুনিক করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে ফাসট্যাগ চালু করা হয়েছিল। রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ি টোল প্লাজা অতিক্রম করার সময় সংযুক্ত অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোলের টাকা কেটে নেওয়া হয়।
২০২১ সালে জাতীয় সড়কগুলিতে ফাসট্যাগ বাধ্যতামূলক করা হয়। এর ফলে নগদ অর্থের মাধ্যমে টোল প্রদানের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক টোল আদায়ের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পায়। গডকরির মতে, ফাসট্যাগ বাধ্যতামূলক করার সুফল ইতিমধ্যেই স্পষ্ট এবং এবার তার পরবর্তী ধাপ হিসেবে বাধাহীন টোল ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে দেশ।
ফিনটেক সম্মেলনে গডকরির বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের গুরুত্বও উঠে আসে।



















