নয়াদিল্লি, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা-র মাধ্যমে দেশের মৎস্য খাতে উৎপাদন, পরিকাঠামো ও রফতানিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যপত্র অনুযায়ী, ২০১৯-২০ সালে ১৪১.৬৪ লাখ টন থেকে ২০২৪-২৫ সালে ভারতের মাছের উৎপাদন বেড়ে রেকর্ড ১৯৭.৭৫ লাখ টনে পৌঁছেছে। একই সময়ে মৎস্যপণ্যের রফতানির পরিমাণ ৪৬,৬৬৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে ৭৩,৮৯০ কোটি টাকা হয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ পিএমএমএসওয়াই ছয় বছর পূর্ণ করেছে। সরকার জানিয়েছে, আধুনিকীকরণ, স্থায়িত্ব এবং মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষিদের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের মৎস্য খাতের রূপান্তরে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
২০২০ সালে চালুর পর থেকে পিএমএমএসওয়াই-র আওতায় মৎস্য খাতে পরিকাঠামো উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষিদের ধারাবাহিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ‘ব্লু রেভলিউশন’ প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি পিএমএমএসওয়াই-র লক্ষ্য ছিল মৎস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত গোটা মূল্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি দূর করা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে মৎস্য ও জলজচাষ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ৫৮ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কোল্ড-চেইন ও বিপণন পরিকাঠামোর জন্য ২,৭৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগ আরও শক্তিশালী হয়েছে।
এছাড়া ২,১৯৫টি ফিশারিজ ফার্মার প্রডিউসার অর্গানাইজেশন (এফএফপিও)-কে ৫৪৪.৮৬ কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে পিএমএমএসওয়াই-র জন্য রেকর্ড ২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সরকার।
মৎস্য ও জলজচাষ পরিকাঠামোয় বড় বিনিয়োগও অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের ১১ আগস্ট পর্যন্ত ২০২০-২১ থেকে ২০২৫-২৬ সময়কালে মৎস্য দফতর মোট ২১,৩৯৪.৮৮ কোটি টাকার মৎস্য ও জলজচাষ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে কেন্দ্রের অংশ ৯,৫১০.৮৯ কোটি টাকা।
রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং বিভিন্ন বাস্তবায়নকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই প্রকল্পগুলির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং মৎস্য খাতের মূল্যশৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
পিএমএমএসওয়াই-র আওতায় মাছ ধরার বন্দর, ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার, কোল্ড চেইন, পরিবহণ ও বিপণন পরিকাঠামোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে ২৮টি ফিশিং হারবার উন্নয়ন প্রকল্প, ২৫টি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার এবং ২৩টি ড্রেজিং প্রকল্পের জন্য মোট ৩,৭৪১.৮৯ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে মৎস্য দফতর।
সরকারের মতে, পিএমএমএসওয়াই-র মূল লক্ষ্য হল মাছের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মূল্যশৃঙ্খলের আধুনিকীকরণ, কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরি, মৎস্যজীবীদের আয় বৃদ্ধি, রফতানি ও গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (জিভিএ) বাড়ানো এবং মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মৎস্য ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।
_______



















