নয়াদিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর শনিবার নয়াদিল্লিতে বেলারুশের বিদেশমন্ত্রী ম্যাক্সিম রিজেনকভের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ভারত-বেলারুশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জয়শঙ্কর জানান, বেলারুশের বিদেশমন্ত্রী ম্যাক্সিম রিজেনকভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করেছেন। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন।
এর আগে শনিবারই ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছন রিজেনকভ। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়, ভারত ও বেলারুশের মধ্যে উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক—উভয় ক্ষেত্রেই বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবে শনিবার থেকে নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে দু’দিনের ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। সম্মেলনে ব্রিকস সদস্য দেশগুলির পাশাপাশি অংশীদার দেশ এবং আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন।
২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের মূল ভাবনা হল—‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মানবতা প্রথম’ বা ‘মানবতাই প্রথম’ ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা এবং অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে মতবিনিময় করবেন নেতারা।
বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি হল ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। অংশীদার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে বেলারুশ, কিউবা, বলিভিয়া, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম।
গত মাসে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সমাধানে ভারত গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে।
ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তায় লুকাশেঙ্কো বলেন, মিনস্ক ধারাবাহিকভাবে নয়াদিল্লির সঙ্গে সংলাপ আরও গভীর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সক্রিয় যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই ভারত-বেলারুশ সম্পর্ককে একটি ‘গুণগতভাবে নতুন স্তরে’ নিয়ে যেতে তিনি আশাবাদী। যৌথ প্রচেষ্টায় দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়েও উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
























