নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর দেশটির বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দিনে ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তাবে অনুমোদন দিল ভারত। সোমবার এক সরকারি বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটিকে প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মুজফ্ফরপুর-ঢালকেবর ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট লাইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৬০০ মেগাওয়াট এবং টনকপুর-মহেন্দ্রনগর ১৩২ কেভি সিঙ্গল সার্কিট লাইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে পর্যালোচনা করা হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় নেপালের জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং অতিরিক্ত বিদ্যুতের প্রয়োজন তৈরি হয়। এই অনুমোদন নেপালের কঠিন পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে এবং ভারত-নেপালের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে জানিয়েছে ভারত।
ভারত জানিয়েছে, নেপালকে সহযোগিতা করা এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বন্যার পর ভারত নেপালের জন্য মানবিক সহায়তাও জোরদার করেছে। ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর পাশাপাশি অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ফরেনসিক অভিযানে কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান ব্যবহার করে কাঠমান্ডুতে ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।
এছাড়া কাদা উদ্ধারের জন্য বিশেষ স্যুট, গ্যাস ডিটেক্টর, শ্বাসযন্ত্র, ইনফ্ল্যাটেবল ওয়াকওয়ে, পোর্টেবল জেনারেটর, লাইটিং টাওয়ার এবং জল নিষ্কাশনের পাম্পসহ বিশেষ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ভারত। নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ কিট, রিএজেন্ট এবং ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয়েছে।
এদিকে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩৮৬ হয়েছে। আরও মৃতদেহ উদ্ধারের পর এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলির মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১০৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫,১৩০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় উত্তর ও মধ্য নেপালের বহু শহর ও গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তা বাহিনী এখনও উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ১৩,৭০০-রও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩৩৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
—আইএএনএস



















