জয়পুর, ১৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাজস্থানের অজমের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন দখল করল কংগ্রেস। ৮০টি ওয়ার্ডের মধ্যে কংগ্রেস জিতেছে ৩৭টিতে। বিজেপি পেয়েছে ৩২টি আসন এবং নির্দল প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ১১টি ওয়ার্ডে। কোনও দলই বোর্ড গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৪১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় নির্দল কাউন্সিলররাই এখন অজমের পুরবোর্ড গঠনে ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠেছেন।
এই ফল বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ গত ৩৬ বছর ধরে অজমের পুরবোর্ড বিজেপির নিয়ন্ত্রণে ছিল। আগের নির্বাচনে বিজেপি ৪৮টি আসন পেয়েছিল। সেখানে কংগ্রেসের দখলে ছিল ১৮টি আসন, আরএলপির একটি এবং নির্দলদের ১৩টি আসন। এবার সেই সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গিয়ে বিজেপিকে পিছনে ফেলে দিয়েছে কংগ্রেস।
নির্বাচনে বড় চমক এসেছে ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী বাবিতা চৌহান বিজেপির মধু শেখাওয়াতকে পরাজিত করেছেন। প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুরেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের স্ত্রী মধুকে মেয়র পদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফলও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া মনিকা জৈন সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছেন। এই ওয়ার্ডটি রাজস্থান বিধানসভার স্পিকার বাসুদেব দেবনানির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, প্রাক্তন মেয়র ধর্মেন্দ্র গেহলতের স্ত্রী হেমা গেহলত, যিনি বিজেপি ছেড়েছিলেন, তিনিও নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।
অজমেরের ৮০টি ওয়ার্ডে মোট ৩৬০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কংগ্রেসের ৭৭ জন, বিজেপির ৭৯ জন এবং নির্দল ও অন্যান্য দলের মোট ২০৪ জন প্রার্থী ভোটে লড়েছিলেন।
অজমের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে মোট ৪,৩৮,০৩৯ জন নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২,৮৬,৮২৩ জন ভোট দিয়েছেন। মোট ভোটদানের হার ছিল ৬৫.৪৮ শতাংশ।
১১ জন নির্দল কাউন্সিলরই এখন বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কংগ্রেস ও বিজেপি—দুই দলকেই নির্দলদের সমর্থন পেতে আলোচনা করতে হতে পারে।
৮০ নম্বর ওয়ার্ডে ২১ বছরের কাশ্যপি সাংখলা জয়ী হয়েছেন। বিজেপি নেতা চন্দ্রেশ সাংখলার মেয়ে কাশ্যপি চলতি দফার পুর নির্বাচনে জয়ী হওয়া কনিষ্ঠতম কাউন্সিলরদের অন্যতম। জয়ের পর তাঁর বাবা ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এদিকে, প্রাক্তন বিজেপি কাউন্সিলর রুবি জৈনও দলীয় বিদ্রোহী হিসেবে নির্দল প্রার্থী হয়ে জয় পেয়েছেন। ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রুবি জয়ের পর বলেন, এলাকার মানুষই তাঁর মনোনয়ন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি তাঁর জয়কে সাধারণ মানুষের জয় বলে উল্লেখ করেন।
অজমেরের এই ফলাফলে শহরের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের বিজেপি আধিপত্য ভেঙে কংগ্রেস সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে। একইসঙ্গে ১১ জন নির্দল কাউন্সিলর পরবর্তী পুরবোর্ড গঠনে সম্ভাব্য ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠেছেন।
—আইএএনএস



















