রাঁচি, ১৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ডের ধনবাদ জেলায় রবিবার সকালে একটি বেআইনি কয়লা খনি ধসে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ন্যাশনাল কোলিয়ারি মজদুর ইউনিয়নের আঞ্চলিক সভাপতি বিমলেশ চৌবে এই তথ্য জানিয়েছেন।
রবিবার সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ ধনবাদের কাত্রাসের রামকানালি ওপি এলাকার কেশলপুর কুমহারপট্টিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বিমলেশ চৌবে জানান, বেশ কয়েকজন পুরুষ ও মহিলা বেআইনি খনির সুড়ঙ্গে ঢুকে কয়লা কাটছিলেন এবং সংগ্রহ করছিলেন। আচমকাই সুড়ঙ্গের উপরের অংশ ধসে পড়ে। এর ফলে ভিতরে থাকা বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কোদাল, গাঁইতি-সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে তাঁরা নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেন। ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানান চৌবে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর তিনজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করে চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ধসের পর আরও বেশ কয়েকজন এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন। সেই আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই এলাকায় সুড়ঙ্গ তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছিল। অভিযোগ, এই বেআইনি খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা মোটরসাইকেলের মাধ্যমে আশপাশের বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হয়।
দুর্ঘটনার সময়ও একইভাবে কয়লা কাটতে ও সংগ্রহ করতে বেশ কয়েকজন সুড়ঙ্গে ঢুকেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। আচমকাই সুড়ঙ্গের কাঠামো ভেঙে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। ধসের প্রকৃত কারণ এবং বেআইনি কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে আরও কেউ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন কি না, তা জানতে উদ্ধার অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
—আইএএনএস



















