কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় বেআইনি জুয়ার আসরে তল্লাশি চালাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের ছোড়া দেশি বোমায় গুরুতর আহত হলেন এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই)। ঘটনায় আরও কয়েকজন পুলিশকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন বলে সোমবার পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার গভীর রাতে সালার থানার এএসআই সাদিক আলির নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল অভিযান চালায়। পুলিশকর্মীদের দেখতে পেয়েই অভিযুক্তরা তাঁদের লক্ষ্য করে দেশি বোমা ছুড়তে শুরু করে বলে অভিযোগ। পরপর একাধিক বোমা হামলায় সাদিক আলি গুরুতর আহত হন এবং আরও কয়েকজন পুলিশকর্মী সামান্য জখম হন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ দলকে লক্ষ্য করে একাধিক দেশি বোমা ছোড়ার পর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
বোমা হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয়। আহত পুলিশকর্মীদের প্রথমে সালার গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এএসআই সাদিক আলির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। পুলিশ সূত্রে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই খারেড়া গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। বেআইনি জুয়ার আসর পরিচালনার সঙ্গে কারা যুক্ত ছিল, হামলায় কারা জড়িত এবং বিস্ফোরক কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের গতিবিধিও অনুসরণ করার চেষ্টা চলছে। এলাকায় কোনও সংগঠিত চক্র বেআইনি জুয়ার কারবার চালাচ্ছিল কি না এবং তারাই পুলিশ দলের উপর হামলার পিছনে ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।



















