ইম্ফল/আইজল, ১৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মণিপুর ও মিজোরামে পৃথক অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী ৫ কোটি ৮ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের হেরোইন উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি একটি মার্কিন তৈরি .৩২ ক্যালিবারের পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও তিনটি জীবন্ত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে পাঁচ সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সোমবার সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা দফতরের এক মুখপাত্র জানান, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্পিয়ার কর্পসের অধীন অসম রাইফেলস এবং নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)-র যৌথ বাহিনী মণিপুরের চুরাচাঁদপুর জেলায় দুটি গাড়ি আটক করে। তল্লাশিতে প্রায় ২.৫ কেজি সন্দেহভাজন হেরোইন উদ্ধার হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এই ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চুরাচাঁদপুর জেলা মিজোরামের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য সীমানা এবং মায়ানমারের সঙ্গে অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভাগ করে নেওয়ায় এই এলাকা আন্তঃসীমান্ত মাদক পাচারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে। মাদক পাচার চক্র ভেঙে দিতে নিরাপত্তা বাহিনী ও সহযোগী সংস্থাগুলির লাগাতার তৎপরতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, মিজোরামের চাম্ফাই জেলার জোখাওথারের আয়রন গেট এলাকায় মাদক পাচারের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার রাতে অসম রাইফেলস ও মিজোরাম পুলিশের যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে তাদের কাছ থেকে ৪৪ গ্রাম সন্দেহভাজন হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক মূল্য ৮.৮ লক্ষ টাকা। পরে দু’জনকে জোখাওথার থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অন্য একটি অভিযানে আইজলের সারন ভেং এলাকায় অবৈধ অস্ত্র থাকার নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অসম রাইফেলস ও মিজোরাম পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে মার্কিন তৈরি .৩২ ক্যালিবারের একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং তিনটি জীবন্ত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ আইজল পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অস্ত্র আইনের অধীনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মাদকগুলি মায়ানমার থেকে পাচার করে আনা হয়ে থাকতে পারে। মিজোরামের ছয়টি এবং মণিপুরের পাঁচটি জেলা মিলিয়ে মায়ানমারের সঙ্গে প্রায় ৯১০ কিলোমিটার অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।মায়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ ও অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে মণিপুর ও মিজোরাম উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাদক পাচারের করিডরে পরিণত হয়েছে।
_______



















