নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘আলোচনা, কূটনীতি ও উন্নয়ন’-এর বার্তা গোটা বিশ্বে প্রতিধ্বনিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত দু’দিনের ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের ব্যাপক অংশগ্রহণকেই এর প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
সোমবার জয়শঙ্কর বলেন, ২০২৬ সালের ব্রিকস ইন্ডিয়া সামিটের সাফল্য গোটা দেশ ও বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ১১টি সদস্য রাষ্ট্র, ১০টি সহযোগী দেশ, চারটি আঞ্চলিক সংগঠন এবং সাতটি আন্তর্জাতিক সংগঠন-সহ মোট ৩২টি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
বিদেশমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির ভারতের ‘শক্তিশালী আহ্বান ক্ষমতা’র বিষয়টি সম্মেলনে স্পষ্ট হয়েছে। অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ দেশই রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিল। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ইরানের প্রেসিডেন্ট, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ক্রাউন প্রিন্স-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রধানরাও সম্মেলনে অংশ নেন। জয়শঙ্করের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্বনেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগও সম্মেলনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিশ্ব যখন গভীর মেরুকরণ এবং দুটি বড় সংঘাতের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে ঐকমত্য তৈরি করা ভারতের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলেও উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মতো কঠিন ইস্যুতেও শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পক্ষে একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে ব্রিকস।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য, সরবরাহ শৃঙ্খল ও জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষ ও অসামরিক পরিকাঠামো সুরক্ষার বিষয়েও সম্মত হয়েছে সদস্য দেশগুলি।
জয়শঙ্করের মতে, সম্মেলনের সাফল্য শুধু কোনও একটি বিষয়ে সমঝোতা তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। গোটা সম্মেলনের পরিবেশ ছিল উন্মুক্ত ও স্বচ্ছন্দ। এমন অনেক দেশের নেতারাও পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছেন, যারা অন্য পরিস্থিতিতে হয়তো মুখোমুখি হতেন না।
অর্থনীতি, উন্নয়ন, বিশ্ব দক্ষিণের জন্য প্রযুক্তি এবং বিশ্ব দক্ষিণের কণ্ঠকে আরও শক্তিশালী করার মতো বিষয়গুলিও সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ছিল। তাঁর মতে, এই ক্ষেত্রেও একটি শক্তিশালী বার্তা উঠে এসেছে।
সম্মেলনের প্রথম দিনেই তীব্র ভূ-রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও ব্রিকস দেশগুলি নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে। জয়শঙ্কর জানান, সংস্কার ও স্থিতিস্থাপকতা ছিল এমন দুটি অভিন্ন বিষয়, যার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশ ঐকমত্যে পৌঁছতে পেরেছে।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেও ব্রিকসের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে বলে জানান বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের যে কোনও কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে দেখার বিষয়ে ব্রিকস দেশগুলি একমত। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার মতো ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে স্পষ্টভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, যার মধ্যে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদও রয়েছে, তার নিন্দা করা হয়েছে এবং সন্ত্রাস মোকাবিলায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও দ্বৈত মানদণ্ড প্রত্যাখ্যানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে জয়শঙ্কর বলেন, এই সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘আলোচনা, কূটনীতি ও উন্নয়ন’-এর বার্তারই প্রতিফলন। তাঁর কথায়, “অনেকে বলেছিলেন এটি হবে না। কিন্তু এটি হয়েছে। নয়াদিল্লিতে হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে হয়েছে।”



















