আগরতলা, ১৪ সেপ্টেম্বর: নিখিল ত্রিপুরা মহানাম সেবক সংঘের উদ্যোগে শ্রীশ্রী মহানাম অঙ্গনের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আগরতলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান উৎসব ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সোমবার আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, মহানাম সেবক সংঘের সর্বভারতীয় সভাপতি বাসক বন্ধু ব্রহ্মচারী, সর্বভারতীয় সম্পাদক বন্ধু গৌরব ব্রহ্মচারী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিখিল ত্রিপুরা মহানাম সেবক সংঘ একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের অনেক বাধা-বিপত্তির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়েছে। পরবর্তীতে মানুষ যখন এই সংগঠনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, তখন তাঁরা সংগঠনটিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে যুব সমাজকে এই সংস্থার সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত করতে হবে। যুব সমাজকে সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে সমাজের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একইসঙ্গে সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের যে পরিবেশ একসময় গড়ে উঠেছিল, তা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও এই সংস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানান তিনি। সনাতন ধর্মের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সনাতন’ বলতে এমন এক ধারাকে বোঝায়, যার সৃষ্টির নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে কেউ জানেন না। যুগ যুগ ধরে এই ধারার অস্তিত্ব রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রক্তদান কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যুব সমাজকে স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রতি আরও বেশি করে আকৃষ্ট করতে হবে। যুবক-যুবতীরা রক্তদানের মতো সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলে তাঁদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ থেকেও দূরে থাকতে উৎসাহিত হবেন।
তিনি আরও বলেন, রক্তদান শুধুমাত্র একজন মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজ নয়, এর মাধ্যমে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতিও তৈরি হয়। তাই যুব সমাজকে মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিন প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছায় রক্তদান উৎসবের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সদস্য ও অংশগ্রহণকারীরা রক্তদান ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা তুলে ধরেন। প্রতিষ্ঠা দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।



















