গ্যাংটক, ১৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারী বৃষ্টির জেরে সিকিমের গ্যালশিং জেলায় ভূমিধসের প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে সিংলিটাম ও রিম্বি এলাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে রিম্বিতে ২৮টি বাড়ির ১২৮ জন বাসিন্দাকে সতর্কতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
সিকিম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এসএসডিএমএ) জানিয়েছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে জেলায় একাধিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা পরিস্থিতির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানোর পাশাপাশি ত্রাণ, পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তামূলক কাজ করছেন।
সিংলিটামে ভূমিধসে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি পরিবারকে সিংলিটাম ওয়ার্ডের একটি ত্রাণকেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে শিশু ও প্রবীণ-সহ ৩৩ জনেরও বেশি মানুষ রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে।
রিম্বিতে প্রথমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে চারটি বাড়ির ১৮ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁরা আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু ১৪ সেপ্টেম্বর ভারী বৃষ্টি ও বন্যার পর পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উদ্ধার ও সরানোর কাজ আরও বাড়ানো হয়। এরপর ২৮টি বাড়ির ১২৮ জনকে রিম্বি গ্রাম পঞ্চায়েত কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মন্দির পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকা বর্তমানে ভূমিধসের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। নিচু এলাকায় অবস্থিত রিম্বি ওয়ার্ডেও নতুন করে পাহাড়ের ঢাল ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিক খোলসা নদীর কাছে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমেছে। জলস্রোতের সঙ্গে সেই মাটি ও পাথর রিম্বি গ্রামের দিকে চলে আসছে। এর ফলে একটি আরসিসি সেতু ভেসে গিয়েছে এবং জলের স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির সময় আচমকা জল ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রিম্বি নদীও গতিপথ পরিবর্তন করে রাস্তার পাশের ঢালে প্রভাব ফেলছে।
১৪ মে রাতে প্রধান সড়কটি ভেসে যাওয়ার পর রাজ্য সরকার উঁচু এলাকায় একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে নিয়মিত ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং রাস্তা পুনরুদ্ধারের কাজও চলছে।
সিংলিটামে ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রাতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুবিধার জন্য আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ করতে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একটি অস্থায়ী বাঁশের সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রিম্বির ত্রাণশিবির ও গ্রামের জলাধারে জল সরবরাহ পুনরুদ্ধারের জন্য জলের পাইপও সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে ভূমিধসের বিস্তৃত এলাকার নিচে অবস্থিত রিম্বি আইসিডিএস কেন্দ্রটি ১৪ সেপ্টেম্বর জলে ডুবে যায়। নিরাপদ জায়গায় কেন্দ্রটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
প্রবল বৃষ্টির সময় বাসিন্দাদের ভূমিধসপ্রবণ এলাকা, নদী ও জলধারার কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোথাও নতুন ফাটল, মাটির নড়াচড়া, অস্বাভাবিক শব্দ বা জলের প্রবাহে আকস্মিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর আবেদন করা হয়েছে।
–আইএএনএস



















