গুয়াহাটি, ১৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): অসমের গণপরিবহণ ব্যবস্থায় বড়সড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। যাত্রী নিরাপত্তা, পরিষেবার দক্ষতা এবং যাতায়াতের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে অসম স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন-এর বাসগুলিতে চালু করা হচ্ছে ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, নতুন প্রযুক্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যের বাসগুলি শুধু ‘স্মার্ট’ই নয়, আরও নিরাপদ হয়ে উঠছে।
আইটিএমএস-এর আওতায় এএসটিসি বাসগুলিতে রিয়েল-টাইম জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে বাসের গতিবিধি সরাসরি নজরদারি করা সম্ভব হবে এবং যাত্রী ও পরিবহণ কর্তৃপক্ষ উভয়েই বাস পরিষেবা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাবেন।
এই প্রযুক্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও উন্নতভাবে বাসের সময়সূচি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমানোর পাশাপাশি বাসের বহর পরিচালনাও আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল বাসের ভিতরে জরুরি প্যানিক বা এসওএস বোতাম চালু করা। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই জরুরি ব্যবস্থা সরাসরি কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে এবং বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।
নতুন ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় টিকিটিং এবং ই-পেমেন্টের সুবিধাও যুক্ত হবে। এর ফলে প্রচলিত টিকিট ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দৈনন্দিন গণপরিবহণে ডিজিটাল পেমেন্ট আরও সহজ হবে।
সরকারের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিবর্তনের ফলে এএসটিসি-র পরিষেবা আরও দ্রুত, দক্ষ ও দায়বদ্ধ হবে। একইসঙ্গে যাত্রীদের জন্য নিরাপত্তার পরিবেশও আরও উন্নত হবে।
অসমে সরকারি পরিষেবা এবং পরিবহণ পরিকাঠামোয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই আইটিএমএস চালু করা হচ্ছে। রিয়েল-টাইম নজরদারির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ বাসের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, পরিষেবায় বিলম্ব শনাক্ত এবং রাস্তায় কোনও ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।
শহরাঞ্চলের পাশাপাশি ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অসমের সরকারি বাস এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই জিপিএস ট্র্যাকিং, ডিজিটাল টিকিটিং, জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এবং স্মার্ট সময়সূচি একসঙ্গে চালু হওয়ার ফলে এএসটিসি-র পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে অসম সরকার এএসটিসি-কে গণপরিবহণের আধুনিকীকরণের নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে। প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তা, জবাবদিহি এবং সুবিধাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
—



















