আগরতলা, ৩১ জুলাই: গ্রামকে শক্তিশালী করাই একটি শক্তিশালী রাজ্য ও দেশের ভিত্তি। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের গ্রামগুলিকে আর্থিক, সামাজিক এবং পরিকাঠামোগতভাবে উন্নত করতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ। শুক্রবার মোহনপুরের বিজয়নগর স্মার্ট ও বুটিক গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকেরই গ্রামকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করা উচিত।
মন্ত্রী বলেন আজ গ্রাম শক্তিশালী হয়েছে কি না, তা মানুষই ভালোভাবে জানেন। গ্রাম শক্তিশালী হলে রাজ্য শক্তিশালী হবে, আর রাজ্য শক্তিশালী হলে দেশও আরও শক্তিশালী হবে। এই ভাবনাকে সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গ্রামের আর্থিক, সামাজিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করছেন। বিজয়নগর গ্রাম পঞ্চায়েত তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।”
তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে সরকারি প্রকল্পের আওতায় এই এলাকায় মাত্র ৩৪টি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যে ৫৪৩টি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ৮৯টি বাড়ির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রতন লাল নাথ বলেন, এই সরকারের লক্ষ্য কাউকে পিছিয়ে না রাখা। সকলকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলা। আগে মাত্র ৩৫টি পরিবারের বাড়িতে পানীয় জলের পাইপলাইন সংযোগ ছিল, তাও শুধু রাস্তার ধারে। বর্তমানে ৮৪৬টি পরিবারকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আগে এলাকায় মাত্র একটি পাকা রাস্তা ছিল, এখন সাতটি রাস্তা নির্মাণ হয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ১৬ কিলোমিটারেরও বেশি। একসময় পর্যাপ্ত শৌচাগারের ব্যবস্থা ছিল না, কিন্তু বর্তমান সরকার মানুষের জন্য শৌচাগার নির্মাণ করে সেই সমস্যারও সমাধান করেছে। এই সরকার মানুষের জন্য কাজ করতে জানে।
তিনি বলেন, উন্নয়নের এই ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং গ্রামাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মনির্ভর ও সমৃদ্ধ ত্রিপুরা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে স্মার্টওয়াচ তুলে দেন। পাশাপাশি, টেট পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারকারী এক দৃষ্টিহীন (ব্লাইন্ড) যুবককে তাঁর অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে একটি গিটার উপহার প্রদান করেন। এছাড়াও, সমাজে তাঁদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচজন প্রবীণ নাগরিককে শাল ও চাদর পরিয়ে আন্তরিক সংবর্ধনা জানায় মন্ত্রী।



















