নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩১ জুলাই: আগামী কাল থেকে ত্রিপুরায় শুরু হচ্ছে ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল জনগণনা এর প্রথম পর্যায়। এবারই প্রথম জনগণনার সমস্ত তথ্য কাগজের ফর্ম ছাড়াই সম্পূর্ণভাবে মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। ‘নির্ভুল তথ্য, সঠিক উন্নয়ন-সমৃদ্ধ ভারতের ভিত্তি’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে এই জনগণনা অভিযান পরিচালিত হবে। শুক্রবার আগরতলায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে জনগণনা কার্যক্রমের পরিচালক রতন বিশ্বাস জানান, রাজ্যের আটটি জেলায় জনগণনার কাজ পরিচালনার জন্য প্রায় ৮,০০০ জন জনগণনা কর্মী ও গণনাকারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়োজিত করা হয়েছে।
জনগণনার প্রথম পর্যায়, হাউসলিস্টিং অ্যান্ড হাউজিং সেনসাস, ১ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এই সময়ে গণনাকারীরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে বাড়ির অবস্থা, উপলব্ধ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা এবং পরিবারের সম্পদ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করবেন। রতন বিশ্বাস রাজ্যের সকল বাসিন্দার কাছে সঠিক তথ্য দিয়ে জনগণনা কর্মীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণনা আইন, ১৯৪৮ অনুযায়ী জনগণের দেওয়া সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ গোপনীয় রাখা হবে। পাশাপাশি, ডিজিটাল ব্যবস্থায় অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণনার সময় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য কোনো পরিচয়পত্র বা সরকারি নথি প্রদর্শনের প্রয়োজন হবে না। সংগৃহীত তথ্য শুধুমাত্র জনগণনার কাজে ব্যবহার করা হবে, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়। প্রত্যেক গণনাকারীর কাছে থাকবে সরকারি জনগণনা কিট, পরিচয়পত্র এবং নিয়োগপত্র, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন।
এই জনগণনায় মোট ৩৩টি প্রশ্ন থাকবে, যা মূলত চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে করা হবে- বাড়ির বিবরণ: বাড়ির ধরন এবং নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণ। পরিবারের তথ্য: পরিবারের প্রধানের নাম, সদস্যসংখ্যা এবং বাড়িটি নিজস্ব নাকি ভাড়ার। মৌলিক পরিষেবা: পানীয় জল, বিদ্যুৎ, শৌচাগার, নিকাশি ব্যবস্থা এবং রান্নার জ্বালানির তথ্য। পরিবারের সম্পদ: টেলিভিশন, কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ, মোবাইল ফোন এবং যানবাহনের তথ্য।
তিনি বলেন, জনগণনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে প্রণয়ন করতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের ন্যায্য বণ্টন এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতেও জনগণনার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের প্রতিও জনগণনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করার এবং এক মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে জনগণনা কর্মীদের সর্বাত্মক সহায়তা করার আহ্বান জানান। এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিসংখ্যান দপ্তরের পরিচালক দেবানন্দ রিয়াং, জনগণনা দপ্তরের যুগ্ম পরিচালক পি. এন. চৌধুরী এবং জনগণনা ও অর্থ ও পরিসংখ্যান দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরা।



















