নয়াদিল্লি, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মুন্সি প্রেমচাঁদের জন্মজয়ন্তীতে শুক্রবার তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, তাঁর অমর সাহিত্য চিরকাল দেশের মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহান কথাসাহিত্যিক মুন্সি প্রেমচাঁদের জন্মজয়ন্তীতে তাঁকে শ্রদ্ধার্ঘ্য। তাঁর কালজয়ী সাহিত্যকর্মে মানবিক অনুভূতির যে শক্তিশালী প্রকাশ ঘটেছে, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। জন্মভূমি ও কর্মভূমি কাশীর সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তুলতেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বাস্তববাদ ও সামাজিক সমতার ভিত্তিতে রচিত তাঁর অমর সাহিত্য চিরকাল দেশবাসীর প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও প্রেমচাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘কথাসম্রাট’ নামে পরিচিত প্রেমচাঁদ তাঁর সাহিত্যে সমাজের ঘটনা এমন জীবন্তভাবে তুলে ধরেছেন যে আজও তাঁর রচনাগুলি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সমাজে বিদ্যমান দুঃখ, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে তিনি যেমন কলম ধরেছিলেন, তেমনই শিশুদের মনোজগতও অত্যন্ত সহজ ও হৃদয়গ্রাহীভাবে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর সাহিত্য আজও আদর্শ লেখালেখির অন্যতম অনুপ্রেরণা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, হিন্দি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক এবং ‘কথাসম্রাট’ মুন্সি প্রেমচাঁদের সাহিত্য ভারতীয় সমাজের বাস্তবতা, সংগ্রাম, বেদনা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে জীবন্ত করে তুলেছে। তাঁর রচনা শুধু সাহিত্য নয়, বরং সমকালীন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের এক শক্তিশালী দলিল। সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা আজও তাঁর লেখায় সমানভাবে প্রতিফলিত হয়।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও প্রেমচাঁদের জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁর সাহিত্য সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও আত্মমর্যাদার কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল। তাঁর রচনা আগামী দিনেও সামাজিক সচেতনতা, মানবিক সহমর্মিতা এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে উদ্বুদ্ধ করবে।
১৮৮০ সালে জন্মগ্রহণকারী এবং ১৯৩৬ সালে প্রয়াত মুন্সি প্রেমচাঁদ আধুনিক ভারতীয় সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত। হিন্দি ও উর্দু সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে ‘উপন্যাস সম্রাট’ বলা হয়। ১৪টি উপন্যাস, ৩০০-রও বেশি ছোটগল্প এবং অসংখ্য প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি কৃষক, শ্রমিক, নারী ও সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং বিংশ শতাব্দীর গোড়ার ভারতের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।



















