আগরতলা, ৩১ জুলাই: রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে শুক্রবার এক প্রেস বিবৃতি জারি করেছে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। দলের সভাপতি প্রবীর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজ্যের একাংশ পুলিশ আধিকারিকের রাজনৈতিক আনুগত্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা কমছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অতীতে রাজ্যের পুলিশ বাহিনী নিরপেক্ষতা, সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠার জন্য প্রশংসিত ছিল। দায়িত্ব পালনে বহু পুলিশ আধিকারিক ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেছে কংগ্রেস।
দলের অভিযোগ, পুলিশের একাংশের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করার সক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। সংবিধান রক্ষা এবং নাগরিকদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশকে আরও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রেস বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত সাড়ে আট বছরে রাজ্যে একাধিক ঘটনায় পুলিশ কর্মীরা আক্রান্ত হলেও অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, শাসকদলের স্বার্থ রক্ষা না করলে কিছু পুলিশ কর্মী প্রশাসনিক চাপ বা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।
এছাড়া বেআইনি বাণিজ্য, মাদক পাচার, বিরোধীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, এনডিপিএস-সহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের তদন্তে প্রভাবশালীদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। আগরতলার বিভিন্ন থানায় নারী নির্যাতনের মামলায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপের ঘটনাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক পুলিশ আধিকারিকের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেস দাবি করেছে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। দলের অভিযোগ, সরকার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, এখনও রাজ্য পুলিশে বহু সৎ, কর্তব্যপরায়ণ ও সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ আধিকারিক রয়েছেন। তাঁদের প্রতি আইন ও সংবিধান রক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রাখতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
























